ভাইরাল খবর
‘সংবিধানবিরোধী’ তকমা অগ্রাহ্য করে পাশ ওয়াকফ সংশোধনী বিল
ডিজিটাল ডেস্কঃ বিতর্ক, বিরোধিতা ও দীর্ঘ আলোচনার মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত রাজ্যসভায় পাশ হল ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল, ২০২৫। ৪ এপ্রিল রাতে, ২টো ৩২ মিনিটে এই গুরুত্বপূর্ণ বিলটি ( দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টা) পর পাশ হয়। ১২৮ জন সাংসদ বিলের পক্ষে ভোট দেন, বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৯৫টি। এখন রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলেই এটি আইনে পরিণত হবে।
বিলটি প্রথমে পেশ হয় লোকসভায়, যেখানে ২৮৮ জন সাংসদ সমর্থন করেন এবং ২৩২ জন এর বিরোধিতা করেন। এরপর এটি পেশ হয় রাজ্যসভায় বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা নাগাদ। টানা ১৩ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পর গভীর রাতে ভোটাভুটির মাধ্যমে পাস হয় বিলটি। বিরোধী দলগুলি, বিশেষত কংগ্রেস এবং ভারত জোট, ওয়াকফ (সংশোধনী) বিলটির কড়া বিরোধিতা করে। তাদের অভিযোগ, এটি মুসলিমদের জমি কর্পোরেট সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার পথ প্রশস্ত করবে। তাঁরা বিলটিকে অসাংবিধানিক এবং সংখ্যালঘুবিরোধী বলেও অভিহিত করেন।
আরও পড়ুনঃ মাঝরাতের পর ভোটাভুটির ফল ঘোষিত, রাস্যসভাতেও পাশ ওয়াকফ সংশোধনী বিল
কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু পাল্টা দাবি করেন, এই বিল সংখ্যালঘুদের বিপক্ষে নয়, বরং একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ ওয়াকফ বোর্ড গঠনের লক্ষ্যে আনা হয়েছে। তিনি জানান, বিলটিতে সংসদের যৌথ কমিটি (জেপিসি)-র সুপারিশও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রিজিজু আরও বলেন, “ওয়াকফ বোর্ডের গঠন নতুন রূপে হবে, যেখানে ২২ সদস্যের মধ্যে সর্বাধিক ৪ জন অমুসলিম সদস্য থাকতে পারবেন। এতে বোর্ডের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান আরও বাড়বে।”
ভোটাভুটির সময় রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড় চেয়ারে উপস্থিত থাকায় কিছু বিরোধী সাংসদ অবাক হয়ে যান। পরে তিনি জানান, প্রয়োজনে তিনিও ভোট দিতে পারেন। তবে সরকারপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়, তাঁর ভোটের প্রয়োজন নেই। এই বিলের পাশাপাশি মুসলিম ওয়াকফ বিল, ২০২৫-ও রাজ্যসভায় পাস হয়েছে। এখন দুই বিলই রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন মিললেই নতুন আইনের রূপ পাবে এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন।
