ভাইরাল খবর
সোশ্যাল মিডিয়ায় পাকিস্তানি নারীর প্রেমের ফাঁদ, তথ্য ফাঁস করে ধরা রেল আধিকারিক
ডিজিটাল ডেস্কঃ এটি একটি ভয়াবহ ঘটনা, যেখানে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। রাজস্থানের বিকানেরে রেলের এক আধিকারিক ভবানী সিংহ পাকিস্তানি মহিলার ‘হানিট্র্যাপে’ (Honey Trap) ফেঁসে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে গ্রেফতার করেছে রাজস্থান পুলিশের বিশেষ শাখা (SOG)।
সমাজমাধ্যমের মাধ্যমে ভবানী সিংহের সঙ্গে এক মহিলার পরিচয় হয়। প্রথমে তাঁরা সাধারণ কথাবার্তা চালালেও ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। ওই মহিলা নিজেকে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও অনলাইন বিজনেস কনসালটেন্ট বলে পরিচয় দেন। ভবানী সিংহ সহজেই তাঁর কথায় প্রভাবিত হন এবং তাঁদের মধ্যে কথোপকথন আরও ব্যক্তিগত স্তরে পৌঁছে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মহিলাটি ধীরে ধীরে ভবানী সিংহকে প্রলোভনে ফেলে। তিনি যৌন সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে ভবানী সিংহকে আরও বেশি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলেন। তাঁদের মধ্যে ভিডিও কল এবং ঘনিষ্ঠ ছবি আদানপ্রদান হয়। এখানেই ফাঁদ পেতে রেখেছিল ওই পাকিস্তানি মহিলা।
ভবানী সিংহ রেলের একজন আধিকারিক হিসেবে বেশ কিছু সংবেদনশীল তথ্যের নাগাল পেতেন। হানিট্র্যাপে ফাঁসানোর পর মহিলাটি তাঁকে লোভনীয় টাকা উপার্জনের সুযোগ দেন। বলা হয়, কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং তথ্য শেয়ার করলে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ পাবেন। একই সঙ্গে ওই মহিলার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি এবং ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। এই ভয় এবং প্রলোভনের কারণে ভবানী সিংহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি তথ্য ফাঁস করতে থাকেন। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ISI-এর জন্য কাজ করা ওই মহিলাকে ভারতীয় রেলওয়ে সংক্রান্ত গোপন নথি পাঠিয়েছিলেন।
গোয়েন্দা সংস্থা এবং সাইবার সিকিউরিটি বিভাগ কিছুদিন ধরেই সমাজমাধ্যমে এই ধরনের সন্দেহজনক কার্যকলাপের ওপর নজর রাখছিল। ভবানী সিংহের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাঁর ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হয়। এর পরেই প্রমাণ হাতে পেয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগেও বহু ভারতীয় সেনা ও সরকারি আধিকারিকদের হানিট্র্যাপে ফেলে তথ্য চুরি করা হয়েছে। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ISI দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় সেনা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের টার্গেট করে আসছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি কর্মীদের জন্য নতুন করে প্রশিক্ষণ এবং সমাজমাধ্যম ব্যবহারে বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের ঘটনা দেশকে নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই নাগরিকদেরও সচেতন থাকা দরকার, যাতে তাঁরা কখনও কোনও অজানা বা সন্দেহজনক লিঙ্ক বা অনুরোধ গ্রহণ না করেন। কারণ কখন, কীভাবে কার ফাঁদে পড়বেন, তা বোঝা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
