দেশের খবর
মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর ২০২৯ থেকে, ডিলিমিটেশনেই নির্ভর ভবিষ্যৎ
ডিজিটাল ডেস্কঃ ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই তড়িঘড়ি পাশ হয়েছিল মহিলা সংরক্ষণ বিল। তবে সেই সময় থেকে কার্যকর হয়নি এই বিধান। এবার কেন্দ্রীয় সরকারি (Central Government) সূত্রে ইঙ্গিত, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই কার্যকর হতে চলেছে মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ। একইসঙ্গে ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড এবং মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনেও প্রথমবার প্রয়োগ হবে এই নিয়ম।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সংসদে পাশ হয় ‘মহিলা সংরক্ষণ বিল (Women’s Reservation Bill)’। দেশের প্রায় সব বড় রাজনৈতিক দল এই বিলকে সমর্থন করেছিল। সংসদের দুই কক্ষেই দীর্ঘ আলোচনা শেষে প্রায় সর্বসম্মতভাবে বিলটি পাশ হয়। কংগ্রেস (Congress) নেত্রী সনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi) এই বিলের পক্ষে দাঁড়িয়ে আগেই সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন। বিল অনুযায়ী, লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভাগুলির এক তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। অর্থাৎ প্রতি তিন জন জনপ্রতিনিধির মধ্যে একজন মহিলা হবেন।
আরও পড়ুনঃ দিঘায় প্রথম রথযাত্রা! নিরাপত্তা ঘিরে নবান্নে আজ জরুরি বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর
তবে শর্ত ছিল, ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসের পরে তবেই সংরক্ষণ কার্যকর হবে। তার আগে হতে হবে জনগণনা। করোনা মহামারির জন্য ২০২১ সালের জনগণনা পিছিয়ে গিয়েছিল। সম্প্রতি সরকার ঘোষণা করেছে, ২০২৬ সাল থেকে শুরু হবে নতুন জনগণনা। এরপর আসবে আসন পুনর্বিন্যাস। তারপরই সংসদ ও বিধানসভার নতুন সীমানা নির্ধারণ হবে।
তবে ডিলিমিটেশন নিয়ে বেশ কিছু রাজ্যের আপত্তি রয়েছে। বিশেষ করে তামিলনাড়ু (Tamil Nadu) সহ দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্য এই প্রক্রিয়া চায় না। তাঁদের আশঙ্কা, জন্ম নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের জন্য এই সব রাজ্যের আসন সংখ্যা কমে যেতে পারে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন (M K Stalin) মনে করেন, নতুন জন্মহার উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতেও জাতীয় গড়ের নিচে না নামা পর্যন্ত ডিলিমিটেশন না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। এমনকি ২০৫০ সাল পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে জোর সওয়াল করছেন তিনি।
ফলে একাধিক প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক জটিলতার কারণে ২০২৩ সালে সংসদে পাশ হওয়া মহিলা সংরক্ষণ বিল বাস্তবে কার্যকর হতে সময় লাগবে আরও প্রায় ছয় বছর। যদিও তা আদৌ ২০২৯ সালেই কার্যকর হবে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি নিয়ে সরকার নিশ্চুপ রয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে।
