রাজ্যের খবর
জয়গাঁর মিষ্টির দোকান থেকে উদ্ধার তিন শিশুশ্রমিক – আলিপুরদুয়ারে শিশুশ্রম বিরোধী অভিযান
জীবনটা মিষ্টি নয়, ছিল কষ্টে ভরা। জয়গাঁর এক মিষ্টির দোকানে (Sweet Shop) অমানবিক অবস্থায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছিল তিন শিশু (Child Labour)। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কাজ, মাঝেমধ্যে আধপেটা খাওয়া (Half Food), আর নির্যাতন (Harassment) ছিল তাদের জীবনের অঙ্গ। অবশেষে সেই দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি মিলল।
শুক্রবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সমাজকল্যাণ দপ্তর (Social Welfare Department), শ্রম দপ্তর (Labour Department), সিডব্লিউসি (CWC) এবং পুলিশের (Police) যৌথ অভিযানে দোকান থেকে ওই তিন শিশুকে উদ্ধার করা হয়। তাদের বয়স আনুমানিক ১১ বছর। উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে দু’জন বিহারের (Bihar) বাসিন্দা এবং একজন জয়গাঁর স্থানীয়।
অভিযোগ, পড়াশোনার (Education) সুযোগ তো দূরের কথা, দোকানের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে (Unhygienic Condition) রাত কাটাতে হতো তাদের। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের (Physical and Mental Torture) শিকার হতো তারা নিয়মিত। এখন তাদের জলপাইগুড়ির সরকারি হোমে (Government Home) পাঠানো হয়েছে। সেখানেই চলবে নিয়মিত কাউন্সেলিং (Counseling) এবং নেওয়া হবে তাদের বয়ান।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শিশুদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের পরেই মিষ্টির দোকানের মালিকের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা (Legal Action) নেওয়া হবে। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তের নাম আপাতত প্রকাশ করা হয়নি। পাশাপাশি শিশুদের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
জয়গাঁ থানার আইসি পালজের শেরিং ভুটিয়া বলেন, “জেলা প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা শিশুদের উদ্ধার করে সিডব্লিউসির হাতে তুলে দিয়েছি।” জেলা সিডব্লিউসির চেয়ারম্যান অসীম বোস জানান, “আমাদের কাছে আগে থেকেই খবর ছিল যে সামান্য মজুরি (Low Wage) দিয়ে তিন শিশুকে খাটানো হচ্ছে। বয়ান নেওয়ার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা হবে।”
শিশুশ্রম আইন (Child Labour Act) লঙ্ঘন দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ জেলার নানা প্রান্তে এখনও শিশুদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন আরও কঠোর পদক্ষেপ নিক।

