দুর্ঘটনা
অবরোধে থমকে জাতীয় সড়ক, যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে ফুঁসল এলাকা
ডিজিটাল ডেস্কঃ পশ্চিম বর্ধমানের (Paschim Bardhaman) চিত্তরঞ্জনে (Chittaranjan) এক পথ দুর্ঘটনার জেরে দফায় দফায় উত্তেজনার সাক্ষী থাকল এলাকা। মঙ্গলবার রাতে গাড়ির ধাক্কায় এক যুবকের (Youth) মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ এবং চাকরির দাবিতে রীতিমতো রাস্তায় নেমে পড়ে স্থানীয়রা। প্রায় ১৭ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট, স্তব্ধ হয়ে যায় যাত্রী পরিবহণ।
মৃত যুবক অশোক মাহাতো (Ashok Mahato)-র পরিবারের দাবি, গাড়ির মালিককে ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং সঙ্গে অন্তত দুইজনকে চাকরি দিতে হবে। এই দাবি মানা না হওয়ায় দেন্দুয়া-কল্যাণেশ্বরী (Dendua-Kalyaneshwari) রোড ও চিত্তরঞ্জন-আসানসোল রোড অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয়রা।
প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও, তা ব্যর্থ হয়। ফলে বুধবার দুপুর নাগাদ পুলিশ (Police) হস্তক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জও করা হয়। মুহূর্তে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, প্রশাসন চাইলে আলোচনা চালিয়েই সমাধান সূত্রে পৌঁছাতে পারত। পুলিশের হঠাৎ কড়া পদক্ষেপে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে প্রশাসনের বক্তব্য, এতক্ষণ ধরে রাস্তা অবরুদ্ধ থাকায় জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছিল, যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে উঠছিল—সেই কারণেই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়।
এই ঘটনার জেরে চিত্তরঞ্জন থেকে রূপনারায়ণপুর পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়, বহু যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অবশেষে বুধবার বিকেলে অবরোধ তুলে নেয় বিক্ষোভকারীরা।
একটা দুঃখজনক মৃত্যু ঘিরে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ফের একবার তৈরি হল আস্থার ফাঁক—যা ঘুচবে কি? প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রাই।


