উত্তর দিনাজপুর
রায়গঞ্জ মেডিক্যালে সহকর্মীর ছুরির কোপে রক্তাক্ত লন্ড্রি কর্মী
ডিজিটাল ডেস্কঃ রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (Raiganj Medical College & Hospital) ভিতরে বৃহস্পতিবার সকালে ঘটল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সহকর্মীর ছুরিকাঘাতে (Stabbing) গুরুতর আহত হলেন এক অস্থায়ী লন্ড্রি কর্মী (Temporary Laundry Staff)।
জানা গিয়েছে, আহত কর্মীর নাম কার্তিক রজক (Kartik Rajak)। তিনি গত ৭–৮ বছর ধরে একটি এজেন্সির (Agency) মাধ্যমে হাসপাতালে কাজ করছেন। অভিযোগ, এ দিন সকালে হাসপাতালের পুরনো ভবনে কাজে যোগ দেওয়ার সময় উত্তম দাস (Uttam Das) নামে তাঁর এক সহকর্মী আচমকাই তাঁকে গালিগালাজ করতে শুরু করেন। প্রতিবাদ করতেই উত্তম চাকু (Knife) বের করে কার্তিকের পেটে ও হাতে আঘাত করে।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতাল চত্বরে ছুটে আসেন কার্তিকের মা পুষ্প রজক। ছেলের রক্তাক্ত দেহ দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
আহত কার্তিক বর্তমানে রায়গঞ্জ মেডিক্যালে ভর্তি, পুরুষ সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে (Male Surgical Ward) চিকিৎসাধীন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তম দাস মাত্র চার মাস আগে বহরমপুর (Berhampore) থেকে এসে অস্থায়ীভাবে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। লন্ড্রি সুপারভাইজার (Laundry Supervisor) সাগর রজক জানান, এর আগেও উত্তমের বিরুদ্ধে একাধিকবার দুর্ব্যবহারের (Misbehavior) অভিযোগ উঠেছে। এ দিন তিনিও উত্তমের হাতে সামান্য আহত হন।
হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীরা (Security Guards) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তমকে আটক করে পুলিশের (Police) হাতে তুলে দেন।
রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের সরকারি সুপার সোহেল আহমেদ বলেন, “ঘটনার কথা জানানো হয়েছে পুলিশকে। তদন্ত (Investigation) শুরু হয়েছে।”
অন্যদিকে, সহকর্মী ও রোগীদের মধ্যে এই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক। হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গায় নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি হাসপাতালে যখন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়াকড়ি করার প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময়ে এমন ঘটনা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে সামান্য বচসা (Altercation) এই রকম ভয়াবহ রূপ নিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ (Interrogation) করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ফের একবার মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, হাসপাতাল শুধু রোগী ও চিকিৎসকদের জায়গা নয়—এখানে কর্মীদের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই নিরাপত্তা যদি ভেঙে পড়ে, তবে তার ফলাফল হতে পারে রক্তাক্ত।


