প্রয়াত রাজনীতির চাণক্য মুকুল রায়: শোকাতুর মমতা-অভিষেক, সমবেদনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী মোদি
Connect with us

রাজনীতি

প্রয়াত রাজনীতির চাণক্য মুকুল রায়: শোকাতুর মমতা-অভিষেক, সমবেদনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্ক: বঙ্গ রাজনীতির এক মহীরুহের পতন ঘটল। দীর্ঘ অসুস্থতার পর রবিবার রাতে সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে (Private Hospital) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। রাজনীতির ‘চাণক্য’ হিসেবে পরিচিত এই নেতার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা রাজ্য।

তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং একসময়ের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ (Second-in-Command) মুকুল রায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে (X handle) প্রিয় সহযোদ্ধার স্মৃতিচারণা করে লিখেছেন, “তৃণমূলের দীর্ঘ লড়াইয়ে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।” শোকাতুর মুখ্যমন্ত্রী মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু রায়কেও আশ্বাস দিয়েছেন এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার।

মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও (Narendra Modi)। তিনি প্রয়াত নেতার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সমাজসেবামূলক প্রচেষ্টার কথা স্মরণ করে তাঁর পরিবার ও অনুগামীদের প্রতি সমবেদনা (Condolence) জানিয়েছেন।

Advertisement
ads

অন্যদিকে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) মুকুল রায়কে দলের অন্যতম ‘ভিত্তি-স্তম্ভ’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন, দলের প্রসারে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

Advertisement
ads

তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে দলের সংগঠনের মূল কারিগর ছিলেন মুকুল রায়। তিনি দেশের রেল (Railways) ও জাহাজ মন্ত্রকের দায়িত্বও সামলেছেন। তবে ২০১৫ সালের পর থেকে তাঁর রাজনৈতিক সমীকরণে বদল আসতে শুরু করে। ২০১৭ সালে তৃণমূল থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগদান করেন। ২০২০ সালে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির (National Vice President) পদ পান এবং ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে জয়ী হন।

নির্বাচনের পরেই নাটকীয়ভাবে তিনি পুনরায় পুরনো দল তৃণমূলে ফিরে যান। তবে বিধানসভার খাতায়-কলমে তিনি বিজেপির বিধায়ক হিসেবেই থেকে যান। তাঁর বিধায়ক পদ (Legislative Post) খারিজ নিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপত্তিতে মামলা গড়ায় আদালত পর্যন্ত। কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) তাঁর পদ খারিজের নির্দেশ দিলেও, সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে মানবিক দিক থেকে সেই রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে। ফলে আমৃত্যু তিনি বিধায়ক পদেই আসীন ছিলেন।

দীর্ঘদিন কোমায় (Coma) আচ্ছন্ন থাকার পর অবশেষে জীবন যুদ্ধে হার মানলেন রাজনীতির এই অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। তাঁর প্রয়াণে বাংলার রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement