পরিযায়ী শ্রমিক না অনুপ্রবেশকারী? ৬২ হাজার রেশন কার্ড বিহীন ভোটার নিয়ে বাড়ছে রহস্য
Connect with us

ভাইরাল খবর

পরিযায়ী শ্রমিক না অনুপ্রবেশকারী? ৬২ হাজার রেশন কার্ড বিহীন ভোটার নিয়ে বাড়ছে রহস্য

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ ভোটার তালিকায় (Voter List) নাম রয়েছে, ভোটও দিয়েছেন, অথচ রেশন কার্ডের (Ration Card) কোনও রেকর্ড নেই— কোচবিহারে এমন প্রায় ৬২ হাজার ভোটারের খোঁজ পেয়ে রীতিমতো বিস্মিত জেলা খাদ্য দফতরের (Food Department) আধিকারিকরা। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নাম যাচাইয়ের (Verification) কাজ সম্পূর্ণ হলে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ভোটার তালিকার সংশোধন (Revision) প্রক্রিয়ায় কোচবিহারে প্রায় ১ লক্ষ ২২ হাজার ভোটারের নাম বাদ (Deleted) দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিচারাধীন (Under Tribunal) আরও এক লক্ষের বেশি ভোটারের নামও মূল তালিকা থেকে সরানো হয়েছে। এই দুই তালিকা মিলিয়ে মোট ১ লক্ষ ৯৮ হাজার ভোটারের তথ্য জেলা প্রশাসন খাদ্য দফতরের হাতে তুলে দেয় যাচাইয়ের জন্য।

এখনও পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার নাম রেশন ডেটাবেসের (Database) সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। তার মধ্যেই দেখা গিয়েছে, প্রায় ৬২ হাজার মানুষের কোনও রেশন কার্ডের তথ্য পাওয়া যায়নি। অথচ তাঁদের ভোটার পরিচয়পত্র (Voter ID) ছিল এবং তাঁরা ভোটও দিয়েছেন।

রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে বাদ গিয়েছে, তাঁরা সরকারি রেশন ব্যবস্থার সুবিধা আর পাবেন না। তবে যাঁদের মামলা ট্রাইব্যুনালে (Tribunal) বিচারাধীন, তাঁদের ক্ষেত্রে আপাতত এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে না। ইতিমধ্যেই প্রায় ১২ হাজার ভোটার ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে তাঁদের নাম এখনই রেশন ডেটাবেস থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে না।

Advertisement
ads ads

জেলা প্রশাসনের দেওয়া তালিকার আরও প্রায় ৭৮ হাজার নাম এখনও যাচাই বাকি রয়েছে। খাদ্য দফতর জানিয়েছে, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় থাকলেও কেন তাঁদের রেশন কার্ড ছিল না, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। খাদ্য দফতরের প্রাথমিক অনুমান, এঁদের একাংশ পরিযায়ী শ্রমিক (Migrant Workers), যাঁদের নামে কখনও রেশন কার্ড তৈরি হয়নি। আবার অনেকেই মৃত হওয়ায় তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই গণবণ্টন ব্যবস্থার বাইরে চলে গিয়েছেন। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় অনুপ্রবেশ (Infiltration) সংক্রান্ত বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশের ধারণা।