দেশের খবর
মহারাষ্ট্রে বুলেট ট্রেন প্রকল্পে ঐতিহাসিক অগ্রগতি: উদ্বোধন হল ২১ কিমি দীর্ঘ জলের তলা সুড়ঙ্গের প্রথম অংশ
ডিজিটাল ডেস্কঃ মুম্বই-আহমেদাবাদ উচ্চগতির রেল প্রকল্পে এক যুগান্তকারী মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত। মহারাষ্ট্রের ঘানসোলি থেকে শিলফাটা পর্যন্ত ২১ কিমি দীর্ঘ জলের তলা সুড়ঙ্গের প্রথম অংশ উদ্বোধন হয়েছে। এই সুড়ঙ্গটি বৃহত্তর বান্দ্রা কুরলা কমপ্লেক্স (BKC) থেকে থানে পর্যন্ত প্রসারিত এবং দেশের প্রথম সমুদ্রতল সুড়ঙ্গ হিসেবে নজিরবিহীন।
প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে ৩১০ কিমি দীর্ঘ ভায়াডাক্ট নির্মাণ শেষ হয়েছে। দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে রেলপথ বসানো, বৈদ্যুতিক লাইন টানা, স্টেশন ও সেতু নির্মাণের কাজ। মহারাষ্ট্র অংশে এখন কাজের গতি অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি, ট্রেন পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের সংস্থানও চলেছে।
E10 শিনকানসেন: ভারত-জাপান অংশীদারিত্বের নতুন দিগন্ত
জাপানের অত্যাধুনিক শিনকানসেন প্রযুক্তির নতুন অধ্যায় E10 মডেল এবার প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে ভারত এবং জাপানে একসঙ্গে। মুম্বই-আহমেদাবাদ করিডোরে চলবে এই পরবর্তী প্রজন্মের বুলেট ট্রেন। এই উদ্যোগ ভারত ও জাপানের কৌশলগত সহযোগিতার একটি উজ্জ্বল নিদর্শন।
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় নতুন গতি ও নিরাপত্তা
৫০৮ কিমি দীর্ঘ গোটা করিডোরে ব্যবহৃত হচ্ছে জাপানি শিনকানসেন প্রযুক্তি, যা আন্তর্জাতিক মানের গতি, নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এই প্রকল্প ভারতের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের মানচিত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
দ্রুতগতির নির্মাণ কাজ
• ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে ৩১০ কিমি ভায়াডাক্ট
• ১৫টি নদীর সেতু নির্মাণ সম্পূর্ণ, আরও ৪টি সেতু নির্মাণের শেষ পর্যায়ে
• ১২টি স্টেশনের মধ্যে ৫টি নির্মিত, ৩টি স্টেশন এখন সমাপ্তির দ্বারপ্রান্তে
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বান্দ্রা কুরলা কমপ্লেক্স (BKC) স্টেশনটি, যা মাটির ৩২.৫ মিটার নিচে নির্মিত হচ্ছে এবং এর উপর ৯৫ মিটার উঁচু ভবন নির্মাণের উপযুক্ত ভিত্তি গড়ে তোলা হয়েছে।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
মুম্বই–আহমেদাবাদ উচ্চগতির রেল প্রকল্পের এই সাফল্য ভবিষ্যতের আরও বুলেট ট্রেন করিডোর তৈরির ভিত্তি রচনা করছে। দেশব্যাপী উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক বিস্তারে একাধিক প্রকল্প বর্তমানে বিবেচনায় রয়েছে।
ভারতের এই অগ্রগতি প্রমাণ করে, দেশ আজ আন্তর্জাতিক মানের পরিকাঠামো নির্মাণে সক্ষম। এই ঐতিহাসিক যাত্রায় জাপান এক বিশ্বস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে।
