রবিবার উত্তরবঙ্গে সফরে যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে (Kolkata Airport) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তদন্ত চলছে। তবে প্রশ্ন উঠছে—অত রাতে ছাত্রী কীভাবে ক্যাম্পাসের (Campus) বাইরে গেলেন? তাঁকে বাইরে যেতে দেওয়া হল কেন?”
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “আমি কাউকে দোষ দিচ্ছি না, কিন্তু বাইরে থেকে যাঁরা পড়তে আসেন, বিশেষ করে মেয়েরা, তাঁদের আরও সচেতন থাকা উচিত। অত রাতে একা বাইরে বেরোনো উচিত নয়। নিজের সুরক্ষার দায়িত্ব সবার আগে নিজের।”
তবে এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে প্রবল রাজনৈতিক বিতর্ক। বিজেপির (BJP) রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী আসলে মেয়েদের ঘরে আটকে রাখার পরোক্ষ বার্তা দিচ্ছেন। তাঁর পদে থাকার অধিকার নেই।” সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী (Sujan Chakraborty) বলেন, “এই বক্তব্যে স্পষ্ট, রাজ্যের বড় বড় শহরও এখন আর নিরাপদ নয়।”
প্রসঙ্গত, নির্যাতিতা তরুণী ওড়িশার (Odisha) জলেশ্বরের (Jaleswar) বাসিন্দা। অভিযোগ, ১০ অক্টোবর রাত সাড়ে আটটা নাগাদ সহপাঠীদের সঙ্গে কলেজ চত্বরের বাইরে খেতে গিয়েছিলেন তিনি। তখনই কিছু যুবক তাঁর পথ আটকায়। তারপর তাঁকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালের পিছনে থাকা জঙ্গলে (Jungle)।
সঙ্গে থাকা বন্ধু পালিয়ে গেলেও তরুণীকে গণধর্ষণ করা হয়। এরপর তার মোবাইল (Mobile) কেড়ে নেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, প্রথমে তিনজন যুবক হামলা চালায়, পরে আরও দুই অভিযুক্ত যোগ দেয়। ঘটনার সময় এক অভিযুক্তের ফোন থেকে নির্যাতিতা নিজের নম্বরে কল করেন—সেই সূত্র ধরেই পুলিশ প্রথম অভিযুক্তকে শনাক্ত করে এবং পরে বাকিদের খোঁজ পায়।
এখনও দুই অভিযুক্ত পলাতক। তাদের খোঁজে জঙ্গল এলাকায় ড্রোন ও বাইক ব্যবহার করে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।