নীল তিমির পর এবার কোরিয়ান লাভ গেম! খেলার টাস্ক পূরণ করতে গিয়ে চরম সিদ্ধান্ত তিন বোনের
Connect with us

ভাইরাল খবর

নীল তিমির পর এবার কোরিয়ান লাভ গেম! খেলার টাস্ক পূরণ করতে গিয়ে চরম সিদ্ধান্ত তিন বোনের

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ আবারও অনলাইন গেমের (Online Game) মরণফাঁদে প্রাণ হারাল তিন কিশোরী। প্রায় এক দশক আগে রাশিয়ার ‘ব্লু হোয়েল’ (Blue Whale) গেম যেমন অসংখ্য কিশোর-কিশোরীর প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল, এবার ঠিক তেমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে। তিন বোনের রহস্যজনক আত্মহত্যার (Suicide) ঘটনায় উঠে আসছে রহস্যময় ‘কোরিয়ান লাভ গেম’-এর নাম। গেমের টাস্ক বা নির্দেশাবলী (Instructions) পালন করার নেশাই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল তাদের প্রাণ।

কী এই ‘লাভ গেম’? তদন্তে উঠে আসছে, এটি একটি অনলাইন কোরিয়ান গেম। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই মরণখেলায় অংশগ্রহণকারীদের মোট ৫০টি টাস্ক (Task) দেওয়া হয়। একটি কাজ শেষ করার পরই কেবল পরের নির্দেশটি পাওয়া যায়। শর্ত একটাই—যেকোনো মূল্যে সেই কাজ শেষ করতে হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এই তিন বোন একে একে ৫০ নম্বর টাস্কে পৌঁছে গিয়েছিল। আর সম্ভবত সেই চূড়ান্ত নির্দেশটিই ছিল আত্মহনন। সেই মারণ-নির্দেশ পালন করতেই নয় তলা থেকে একসঙ্গে ঝাঁপ দেয় তারা।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কোভিড (COVID-19) চলাকালীন লকডাউনের সময়েই এই প্রাণঘাতী (Lethal) গেমের প্রতি তীব্র আসক্তি (Addiction) তৈরি হয় তাদের। পড়াশোনায় তারা খুব একটা মনোযোগী ছিল না এবং করোনা পরবর্তী সময়ে স্কুলেও অনিয়মিত হয়ে পড়েছিল। দিনভর মোবাইলে মুখ গুঁজে গেম খেলা বা কোরিয়ান সংস্কৃতির চর্চাই ছিল তাদের একমাত্র কাজ। বাবা-মা বারবার সতর্ক (Warned) করলেও কোনো সুফল মেলেনি। মৃত কিশোরীদের বাবার বয়ান অনুযায়ী, সুইসাইড নোটে তারা লিখে গিয়েছে— “বাবা, আমরা কোরিয়ান ছাড়তে পারব না। কোরিয়ান আমাদের সবকিছু। তোমরা এর থেকে আমাদের আলাদা করতে পারবে না। আমরা আমাদের জীবন শেষ করে দিচ্ছি।”

 যদিও পুলিশ (Police) এখনও নিশ্চিত নয় তারা ঠিক কোন অ্যাপ বা গেম খেলত, তবে তারা যে কোরিয়ান সংস্কৃতির প্রতি চরমভাবে মোহগ্রস্ত ছিল, তা স্পষ্ট। এর আগেও মোমো চ্যালেঞ্জ, লেথাল কোম্পানি বা জম্বি কিলারের মতো গেম জীবন কেড়েছে। কখনও স্রেফ রোমাঞ্চের নেশায়, আবার কখনও গেমের প্রবল মানসিক চাপ (Mental Stress) থেকে এমন চরম সিদ্ধান্ত (Extreme Decision) নিচ্ছে বর্তমান প্রজন্ম। তাই পুলিশ ও প্রশাসনের তরফ থেকে অভিভাবকদের বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা সন্তানদের মোবাইল ব্যবহারের ওপর নজর রাখেন। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা কাউন্সিলরের (Psychologist/Counselor) পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement