দেশের খবর
আধুনিক কাতারের রূপকার শেখ হামাদের প্রয়াণ! ভারতে একদিনের সরকারি শোক ঘোষণা মোদীর
ডিজিটাল ডেস্কঃ কাতারের প্রাক্তন ‘ফাদার আমির’ শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানির প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ভারত। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সোমবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক (National Mourning) পালনের ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ৭৪ বছর বয়সে দোহায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আধুনিক কাতারের রূপকার হিসেবে পরিচিত এই দূরদর্শী (Visionary) নেতা।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (Ministry of External Affairs-MEA) জানিয়েছে, শোক দিবসে দেশের সমস্ত সরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা (National Flag) অর্ধনমিত থাকবে। পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে কোনও বিনোদনমূলক (Entertainment) অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে না। রাষ্ট্রপতি ভবন-সহ দেশের সব সরকারি ভবনেই এই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Prime Minister Narendra Modi) শেখ হামাদের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁকে ভারতের ‘প্রকৃত বন্ধু’ এবং কাতারের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান স্থপতি বলে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাতার সফরের সময় শেখ হামাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ তাঁর কাছে একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা ছিল। একইসঙ্গে তিনি বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি ও রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
نشعر بحزن عميق لوفاة الأمير الوالد لدولة قطر، صاحب السمو الشيخ حمد بن خليفة آل ثاني.
لقد كان قائداً صاحب رؤية، قاد قطر إلى مستويات عظيمة من التطور والازدهار. ونتذكره أيضاً كصديق حقيقي تشرفت بلقائه خلال زيارتي الأخيرة لقطر في فبراير 2024.
أقدم خالص التعازي لأمير قطر، صاحب السمو…— Narendra Modi (@narendramodi) July 12, 2026
ভারত সরকারের পক্ষ থেকে শোকবার্তা পৌঁছে দিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু শীঘ্রই কাতার সফর করবেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রক।
১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতারের শাসক ছিলেন শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানি। তাঁর নেতৃত্বে কাতার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (Liquefied Natural Gas-LNG) রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়। অর্থনীতি, অবকাঠামো (Infrastructure), শিক্ষা (Education), সংস্কৃতি (Culture) ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে (Diplomacy) দেশটিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্ব তাঁর।
শেখ হামাদের আমলেই ভারত-কাতার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক (Bilateral Relations) আরও শক্তিশালী হয়। জ্বালানি, বাণিজ্য (Trade), বিনিয়োগ (Investment) এবং প্রবাসী ভারতীয়দের (Indian Diaspora) স্বার্থে দুই দেশের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ১৯৯৯, ২০০৫ ও ২০১২ সালে তাঁর ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছিল। তাঁর মৃত্যুতে কাতারও চার দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।
