বিশ্বের খবর
সিন্ধুর জল আটকালে ‘হাত কেটে নেব’, ভারতকে হুমকি পাকিস্তানের
সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করায় কোণঠাসা পাকিস্তান। ভারতের জল আটকে দেওয়ার কৌশলে ক্ষুব্ধ পাক জলবায়ুমন্ত্রী মুসাদিক মালিক ভারতকে ‘হাত কেটে নেওয়ার’ নজিরবিহীন হুমকি দিলেন।
সন্ত্রাসবাদের (terrorism) মদতদাতা পাকিস্তানকে যোগ্য জবাব দিতে এবার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ বাড়িয়েছে ভারত। উপত্যকায় সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার কড়া প্রতিক্রিয়া হিসেবে সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি। ভারতের এই বড় পদক্ষেপে কার্যত কোণঠাসা ও দিশাহারা দশা পাকিস্তানের। আর তাতেই মরিয়া হয়ে এবার চরম উসকানিমূলক হুমকি দিল ইসলামাবাদ। ভারতের উদ্দেশে তাদের হুঁশিয়ারি, ‘আমাদের প্রাপ্য জল আটকাতে এলে হাত কেটে নেওয়া হবে।’
পাক মন্ত্রীদের যৌথ সাংবাদিক বৈঠক ও হুমকি: জলের সংকট তৈরি হতেই আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তৎপরতা শুরু করেছে পাকিস্তান। এই জলচুক্তি নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে মঙ্গলবার একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের (international seminar) আয়োজন করেছে তারা, যেখানে বিভিন্ন দেশের আইনজ্ঞ ও জলসম্পদ বিশেষজ্ঞরা (water resource experts) যোগ দেবেন। তবে তার আগেই সোমবার পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এবং জলবায়ুমন্ত্রী মুসাদিক মালিক একটি যৌথ সাংবাদিক বৈঠক (press conference) করেন।
সেখান থেকেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র নিশানা করেন পাক জলবায়ুমন্ত্রী মুসাদিক মালিক। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী মুসাদিক বলেন, “প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী এমন আচরণ করছেন যেন সব ক্ষমতা তাঁর হাতে। তিনি বলেছেন পাকিস্তানে এক ফোঁটা জল যেতে দেবেন না।” এর পরেই চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে পাক মন্ত্রী বলেন, “আমাদের প্রাপ্য জলে যারা ভাগ বসাতে আসবে, তাদের হাত কেটে দেওয়া হবে।” মুসাদিকের এই মন্তব্যের একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় (social media) ভাইরাল হয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইনের দোহাই পাকিস্তানের: অন্যদিকে, পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ দাবি করেছেন যে, কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি এভাবে একতরফাভাবে (unilaterally) স্থগিত করা যায় না। তাঁর মতে, ভারতের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের (international law) পরিপন্থী। ভারতের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের (treaty violation) অপপ্রচার চালিয়ে বিশ্বমঞ্চে সহানুভূতির খোঁজে নেমেছে পাকিস্তান।
ভারতের শক্ত অবস্থান: ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, পাকিস্তানের উপর ভরসা রেখে ৬৫ বছর আগে এই ঐতিহাসিক চুক্তি করা হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান সেই বিশ্বাসের মর্যাদা দেয়নি। ভারতের মাটিতে একাধিক যুদ্ধ এবং ক্রমাগত জঙ্গি হামলা (terrorist attacks) চালিয়েছে তারা। ফলে সন্ত্রাস ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বা চুক্তি যে একসঙ্গে চলতে পারে না, তা বেইজিং ও ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছে দিল্লি।
