রাম মন্দির অনুদান কেলেঙ্কারি! SIT রিপোর্টের পর গ্রেপ্তার ৮
Connect with us

দেশের খবর

রাম মন্দির অনুদান কেলেঙ্কারি! SIT রিপোর্টের পর গ্রেপ্তার ৮

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি টাকার অনুদান ও প্রণামী তছরুপের অভিযোগে অবশেষে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’ (Shri Ram Janmabhoomi Teerth Kshetra Trust)-এর মূল চালিকাশক্তি। বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT)-এর বিস্ফোরক রিপোর্টের ভিত্তিতে পুলিশি অ্যাকশন শুরু হতেই ট্রাস্টের শীর্ষ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন চম্পত রাই (Champat Rai)। তাঁর পাশাপাশি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ট্রাস্টের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য অনিল মিশ্রও (Anil Mishra)।

মন্দিরের টাকা ও সোনা-রুপো চুরির ঘটনায় ট্রাস্টের নতুন সদস্য কৃষ্ণ মোহনের দায়ের করা এফআইআর (FIR)-এর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ৮ জন মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন চম্পত রাইয়ের খাস লোক তথা তাঁর প্রাক্তন গাড়িচালক রমাশঙ্কর যাদব ওরফে তিন্নু, যার কাছে দানবাক্সের চাবি থাকত। এছাড়া গ্রেপ্তার করা হয়েছে অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, অবিনাশ শুক্লা, মণীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রমাশঙ্কর মিশ্র এবং প্রাক্তন ব্যাঙ্ককর্মী সুভাষ শ্রীবাস্তবকে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS) এবং ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন’ (Prevention of Corruption Act)-এর অধীনে চুরি, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও ষড়যন্ত্রের মতো জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, মন্দিরে এযাবৎ ৩,৫০০ কোটি টাকারও বেশি নগদ প্রণামী জমা পড়েছে। সিটের রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, টাকা গোনার পুরো প্রক্রিয়াই ছিল অত্যন্ত আলগা। কর্মচারীদের সঠিক তল্লাশি বা ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন (Background Verification) করা হতো না এবং সিসিটিভি (CCTV) নজরদারিও ছিল নামমাত্র। এমনকি চুক্তিভিত্তিক বহিরাগত কর্মীদের (Outsourced Staff) দিয়ে টাকা গণনার সুযোগ নিয়ে মাঝপথেই কোটি কোটি টাকা ও মূল্যবান সোনা-রুপো গায়েব করে দেওয়া হতো। অভিযুক্ত অ্যাটেনডেন্টের অ্যাকাউন্ট ও অন্যাণ্যের বাড়ি থেকে ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ চুরি যাওয়া নগদ উদ্ধার হয়েছে।

এই চরম অব্যবস্থার মুখে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ কড়া বার্তা দিয়ে জানান, সনাতন মূল্যবোধ নিয়ে যারা ছেলেখেলা করবে, তাদের রেয়াত করা হবে না। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের চাপেই শেষ পর্যন্ত ট্রাস্টের দুই শীর্ষকর্তা পদ ছাড়তে বাধ্য হলেন।

Advertisement
ads ads
Continue Reading
Advertisement ads