ভাইরাল খবর
পরিবারে ফাটল ও দলবদলু বেইমান! সব বিতর্কে বাজারেও একুশে জুলাই নিয়ে অনড় মমতা
ডিজিটাল ডেস্কঃ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের (Electoral Disaster) পর এখন অস্তিত্ব রক্ষার চরম সংকটে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। ৬৫ জন বিধায়ক ও ২০ জন সাংসদের দলবদলের জেরে যখন দল দৃশ্যতই খানখান, ঠিক তখনই ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি কুণাল ঘোষের আহ্বানে রামমোহন লাইব্রেরিতে আয়োজিত ‘আমরা বেইমান নই’ শীর্ষক এক কর্মিসভায় (Workers’ Meeting) ফোনের মাধ্যমে ১২ মিনিট বক্তব্য রাখেন তিনি। চরম ভাঙনের বাজারেও আগামী ২১শে জুলাই ধর্মতলায় ‘শহীদ দিবস’ সমাবেশ (Martyrs’ Day Rally) করার বিষয়ে অনড় মনোভাব দেখান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
আইনি জটিলতা (Legal Complications) ও আদালতের নোটিসের তোয়াক্কা না করে কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে মমতা বলেন, “প্রশাসন অনুমতি না দিলেও আমরা একুশে জুলাইয়ের সভা করব। ধর্মতলার মাঠে যদি মাত্র পাঁচ জন কর্মীও অবশিষ্ট থাকেন, তাও আমি সেখানে যাব এবং মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখব।” দলত্যাগীদের ‘বেইমান’ আখ্যা দিয়ে আবেগঘন সুরে তিনি বলেন, “যে মা (তৃণমূল) আপনাকে রাজনৈতিক পরিচয় দিল, আজ যখন সেই মা নিজে অসুস্থ (Ill) ও সংকটে পড়েছে, তখন কি আপনারা তাকে ফেলে পালাবেন? যাঁদের সুবুদ্ধি আছে ফিরে আসুন, নয়তো ‘না ঘর কা, না ঘাট কা’ হয়ে যাবেন।”
বক্তব্যে তিনি নিজের পারিবারিক যন্ত্রণার কথাও তুলে ধরেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আইনি চাপ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বলেন, “নিজের দুই ভাইকে আমি আগেই দল থেকে দূর করে দিয়েছি। কিন্তু আজ অভিষেককে কীভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে! রোজ ওকে আদালতের চক্কর কাটতে হচ্ছে, দিন-রাত সিআইডি (CID) ও ইডি (ED) ডেকে পাঠাচ্ছে।” একই সাথে নাম না করে বর্তমান বিরোধী দলনেতা (Leader of Opposition) ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বিজেপি স্পনসর্ড সিপিএমের নেতা’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। জবাবে ঋতব্রতও পাল্টা খোঁচা দিয়ে বলেন, “আমায় যদি চারআনার নকুলদানা মনে করা হয়, তবে নেত্রী কেন আমায় নিয়ে সময় নষ্ট করছেন?”
