দুর্ঘটনা
তারাতলার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত বেড়ে হল ১১! ধ্বংসস্তূপে এখনও জারি উদ্ধারকাজ
ডিজিটাল ডেস্ক: তারাতলার ব্রেসব্রিজ সংলগ্ন নির্মীয়মাণ গুদাম (Warehouse) ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১-তে। বুধবার দুপুরের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার (Tragic accident) পর থেকে বৃহস্পতিবারও অবিরাম চলছে উদ্ধারকাজ। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং প্রবল ঝড়-বৃষ্টির মাঝেই ভারতীয় সেনা (Indian Army), এনডিআরএফ (NDRF), দমকল এবং কলকাতা পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান (Rescue operation) চালাচ্ছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বেশ কয়েকজন শ্রমিক আটকে থাকার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির (Advanced technology) ব্যবহার শুরু করেছে সেনাবাহিনী। কাঠামোর ফাঁকফোকরে বিশেষ ক্যামেরা (Special camera) পাঠিয়ে ভেতরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ল্যাপটপের মাধ্যমে ছবি পর্যবেক্ষণ করে আটকে থাকা শ্রমিকদের অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। উদ্ধারকারীদের দাবি, ধসে পড়া কাঠামোর ভেতর থেকে মাঝেমধ্যেই শব্দ পাওয়া যাচ্ছে, তাই এখনও আশা ছাড়ছেন না তাঁরা।
এখনও পর্যন্ত ৩১ জন শ্রমিককে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করা সম্ভব হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৯ জন এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মৃতদের মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া, আসানসোল ছাড়াও বিহারের মুঙ্গেরের বাসিন্দা এবং ১৭ বছরের এক কিশোর রয়েছে। এমনকি, নিখোঁজ থাকা মূল ঠিকাদার (Contractor) আসগার হুসেইনের নিথর দেহও উদ্ধার হয়েছে।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় নির্মাণে গাফিলতি ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠন করা হয়েছে। পোর্ট ট্রাস্টের কাছ থেকে জমি লিজ (Lease) নেওয়া গুদাম মালিক শম্ভুনাথ বেহেরাসহ ৫ জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার (Arrest) করেছে পুলিশ। ধসে পড়া ভারী লোহার বিম ও কংক্রিটের চাঙড় সরাতে গ্যাস কাটার ব্যবহার করা হচ্ছে। দুর্যোগের কারণে পরিস্থিতি জটিল হলেও, শেষ ব্যক্তিকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত অভিযান থামবে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
