habra-station-eviction-left-parties-start-community-kitchen
Connect with us

রাজ্যের খবর

‘অতীতেও ছিলাম, আজও আছি’! হাবরার উচ্ছেদ হওয়া হকারদের অন্ন জোগাতে রান্নাঘর খুলল বামেরা

রেলের উচ্ছেদ অভিযানে হাবরা প্ল্যাটফর্মের সমস্ত দোকান ভেঙে দেওয়ায় রাতারাতি বেকার হলেন বহু মানুষ। এই অসহায় পরিবারগুলোর মুখে খাবার তুলে দিতে হাবরা স্টেশন চত্বরে কমিউনিটি কিচেন খুলল বামেরা।

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ করোনা মহামারীর (Pandemic) সময় ‘রেড ভলান্টিয়ার্স’ (Red Volunteers) হিসেবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিল বামপন্থীরা। এবার রাজ্যজুড়ে চলা হকার উচ্ছেদ অভিযানকে (Eviction Drive) কেন্দ্র করে জীবিকা হারানো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়াতে নতুন উদ্যোগ নিল তারা। হাবরা (Habra) স্টেশন চত্বরে রেলের বুলডোজার অভিযানে রাতারাতি রুজি-রোজগার হারিয়েছেন বহু হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাঁদের জন্যই চালু করা হয়েছে বিশেষ কমিউনিটি কিচেন (Community Kitchen)। সম্প্রতি রেলের জমি এবং স্টেশন চত্বর দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে একটি বৃহৎ সরকারি সিদ্ধান্ত (Government Decision) কার্যকর করা হয়েছে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত সোমবার হাবরা স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় থাকা অস্থায়ী দোকান, গুমটি এবং হকারদের ব্যবসার জায়গা বুলডোজার দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়।

রেলের দাবি, স্টেশন আধুনিকীকরণ (Modernization) এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এই অভিযানের ফলে চরম সংকটে পড়েছেন বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। যাঁদের দৈনন্দিন আয়ের ওপর নির্ভর করে সংসার চলত, তাঁদের আয় এক মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে কয়েকশো পরিবার।

স্থানীয় বাম নেতৃত্ব এই উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ (Protest) জানালেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়সীমা (Deadline) মেনেই স্টেশন চত্বর সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হকার ও ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়াতে হাবরা স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় একটি কমিউনিটি কিচেন চালু করেছে বামেরা। সেখানে প্রতিদিন রান্না করা খাবার (Cooked Food) বিতরণ করা হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।

এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য ও প্রাক্তন বিধায়ক সত্যসেবী কর বলেন, “আমরা অতীতেও মানুষের পাশে ছিলাম, এখনও আছি। মানুষের বিপদের সময়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব।” অন্তত দু’বেলা খাবারের নিশ্চয়তা পেয়ে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন উচ্ছেদে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিও। তবে এই উদ্যোগকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। হাবরার বিজেপি (BJP) বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল বামেদের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে কটাক্ষ করেছেন।

Advertisement
ads ads

তাঁর বক্তব্য, “রেলের উন্নয়ন (Railway Development) এবং আধুনিকীকরণের ফলে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান (Employment) আরও বৃদ্ধি পাবে। সিপিএম অসহায় হকারদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রচারের আলোয় (Limelight) থাকতে চাইছে।”

রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও জীবিকা হারানো ব্যবসায়ীদের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় স্তরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

Continue Reading
Advertisement ads