ভাইরাল খবর
স্কুলের চরম গাফিলতির বলি একরত্তি শিশু? ১২ দিন কোমায় থাকার পর তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু
ডিজিটাল ডেস্কঃ আর পাঁচটা দিনের মতোই হাসিমুখে সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়েছিলেন বাবা-মা। কিন্তু কে জানত, সেটাই হবে তাঁর শেষ স্কুলে যাওয়া! দক্ষিণ কলকাতার নেতাজিনগরের মহর্ষি বিদ্যা মন্দির স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আয়ুষ কুমার নাথের মর্মান্তিক মৃত্যুতে (Tragic death) তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অভিভাবকেরা। স্কুল কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি ও অমানবিকতার অভিযোগে মঙ্গলবার সকাল থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে স্কুল চত্বর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ মে গরমের ছুটি পড়ার ঠিক আগে স্কুলে গিয়েছিল গড়িয়ার বাসিন্দা আয়ুষ নাথ। স্কুল ছুটির পর তার বাবা যখন ছেলেকে আনতে যান, তখন তাঁকে স্টাফরুমে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, ছেলে প্রায় অচৈতন্য (Unconscious) অবস্থায় পড়ে রয়েছে, গোটা শরীর জলে ভেজা এবং শিক্ষিকারা তার গালে চড় মেরে চেতনা ফেরানোর চেষ্টা করছেন। তড়িঘড়ি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, মাথায় গুরুতর চোট লাগার কারণে রক্তক্ষরণ (Brain hemorrhage) হয়েছে। এরপর দীর্ঘ ১২ দিন কোমায় (Coma) থাকার পর গত রবিবার মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে একরত্তি শিশুটি।
এই ঘটনায় স্কুলের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন আয়ুষের মা। তাঁর দাবি, স্কুলে গিয়েই আয়ুষ শিক্ষিকাদের জানিয়েছিল সে অসুস্থ বোধ করছে। তা সত্ত্বেও তাকে দীর্ঘ ৬টি পিরিয়ড জানলার ধারে মাথা নিচু করে বসিয়ে রাখা হয়, বাড়িতে কোনো খবর দেওয়া হয়নি। পরে সহপাঠীদের কাছ থেকে পরিবার জানতে পারে, অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় ভারী স্কুলব্যাগ নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় গড়িয়ে পড়ে যায় আয়ুষ এবং দেওয়ালে সজোরে ধাক্কা খায়। ঘটনাটি আড়াল করার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে স্নান করিয়ে দেয় এবং চিকিৎসকেরা যখন ‘কেস হিস্ট্রি’ (Case history) জানতে চান, তখনও পড়ে যাওয়ার বিষয়টি গোপন করা হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে স্কুলের বাইরে বিক্ষোভ (Protest) দেখান উত্তেজিত অভিভাবকরা। ১৩ মে-র সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV footage) প্রকাশ্যে আনার দাবি জানানো হয়েছে। নেতাজিনগর থানায় স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ (Written complaint) দায়ের করেছে পরিবার। পুলিশ গাফিলতির ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত (Investigation) শুরু করেছে।
