বিশ্বের খবর
মার্কিন হুমকির মুখে ইরানে মানববন্ধনের ডাক! পাওয়ার প্লান্ট রক্ষায় যুবসমাজকে পথে নামার আহ্বান
ডিজিটাল ডেস্কঃ বিশ্বরাজনীতিতে আবারও রণদামামা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারির (Warning) পালটা এবার দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো রক্ষা করতে ‘মানবশৃঙ্খল’ (Human Chain) তৈরির ডাক দিল ইরান সরকার। আমেরিকা যদি ‘বুনো ওল’ হয়, তবে তেহরান যে ‘বাঘা তেঁতুল’, তা বুঝিয়ে দিতেই এই অভিনব প্রতিরোধের (Resistance) পরিকল্পনা।
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে হুমকি দিয়েছেন যে, মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে ইরান আত্মসমর্পণ (Surrender) না করলে দেশটির পাওয়ার প্লান্ট এবং সেতুগুলিতে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, মঙ্গলবার হবে ইরানের জন্য ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের দিন’। এই হামলার আশঙ্কায় ইরানের ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ মন্ত্রক দেশের তরুণ সমাজ, ছাত্র এবং ক্রীড়াবিদদের মঙ্গলবার দুপুর ২টোর মধ্যে সমস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রের (Power Plants) সামনে জড়ো হওয়ার আবেদন জানিয়েছে। মন্ত্রীর মতে, নাগরিকদের এই জমায়েত একটি প্রতীকী বিক্ষোভ (Symbolic Protest) যা আমেরিকাকে বুঝিয়ে দেবে যে ইরানিরা তাদের জাতীয় সম্পদ রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ এক মাস ধরে অবরুদ্ধ (Blocked) হয়ে আছে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz), যার ফলে বিশ্বজুড়ে চরম জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, এই জলপথ স্বাভাবিক না করলে ইরানকে ‘নরক’ দেখতে হবে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মঙ্গল ও বুধবার হামলার তীব্রতা হবে নজিরবিহীন।
অন্যদিকে, ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে যে বিদেশি আধিপত্যের (Foreign Dominance) দিন শেষ হয়ে গিয়েছে। তারা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পিছু হটবে না। বেসামরিক পরিকাঠামোয় হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ (War Crime) হিসেবে গণ্য করে বিশ্ববাসীর নজর কাড়তে চাইছে তেহরান। তবে আলোচনার পথ একেবারে বন্ধ হয়নি; যদি শেষ মুহূর্তে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো সমঝোতা (Negotiation) হয়, তবে ট্রাম্প সামরিক অভিযান স্থগিত রাখতে পারেন। আপাতত গোটা বিশ্ব রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছে মঙ্গলবার রাত ৮টার সেই চরম মুহূর্তের জন্য।


