রাজনীতি
‘বাইরেও আলু বিক্রি করতে পারেন’, চন্দ্রকোনায় চাষিদের আশ্বস্ত করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ডিজিটাল ডেস্কঃ চলতি মরশুমে আলুর বাম্পার ফলন (Bumper Harvest) হওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কায় ছিলেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কৃষক। সেই দুশ্চিন্তা দূর করতে মঙ্গলবার চন্দ্রকোণার প্রচারমঞ্চ থেকে চাষিদের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কোনও চাষি চাইলে নিজের উৎপাদিত আলু রাজ্যের বাইরেও (Out of State) বিক্রি করতে পারেন, এতে সরকারের কোনও আপত্তি নেই।
গত বছর ভিনরাজ্যে আলু বিক্রির ওপর নবান্ন (Nabanna) বিধিনিষেধ জারি করলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। চলতি বছর আলুর উৎপাদন বেড়ে প্রায় ১.৭ কোটি থেকে ১.৯ কোটি টন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বাড়তি আলুর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ (Maintenance) এবং বাজার দর নিয়ে কৃষকরা মগ্ন ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের অভয় দিয়ে বলেন, “আলু চাষিদের শস্যবিমা (Crop Insurance) আছে, তাই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা ৩০ শতাংশ কোল্ড স্টোরেজ (Cold Storage) তৈরি করেছি। আইসিডিএস এবং মিড-ডে মিলের জন্য সরকার আলু কিনবে। বাকি আলু কেউ চাইলে বাজারে বা বাইরে বিক্রি করতে পারেন।”
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের (Conspiracy) অভিযোগ তুলে বলেন, “গরিবের আলু নিয়ে রাজনীতি করবেন না। চাষিদের ক্ষতি হলে সরকার তার ক্ষতিপূরণ (Compensation) দেবে।” উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতিমধ্যেই কৃষকদের লোকসান এড়াতে প্রতি কেজি সাড়ে ৯ টাকা ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে (Minimum Support Price) মোট ১২ লক্ষ মেট্রিক টন আলু সরাসরি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
হুগলি, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রায় ৮ লক্ষ আলুচাষি পরিবারের জীবনধারণ এই চাষের ওপর নির্ভরশীল। মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসে নির্বাচনের (Election) মুখে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড়সড় স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল (Political Circles)।


