খেলার খবর
প্রাণভয় না কি দেশপ্রেম? চরম অনিশ্চয়তার মাঝেও তেহরানে পা রাখলেন ইরানের নারী ফুটবলাররা
ডিজিটাল ডেস্কঃ কয়েক সপ্তাহের চরম নাটকীয়তা আর অনিশ্চয়তার (Uncertainty) অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বদেশে ফিরলেন ইরানের জাতীয় নারী ফুটবল দলের (Iran Women’s Football Team) অধিকাংশ সদস্য। বুধবার তুরস্কের গুরবুলাক সীমান্ত চৌকি হয়ে তাঁরা ইরানে প্রবেশ করেন। তবে দলের সবাই ফেরেননি; সাতজন অস্ট্রেলিয়ায় মানবিক ভিসার (Humanitarian Visa) আবেদন জানালেও শেষ মুহূর্তে পাঁচজন সিদ্ধান্ত বদলে দেশে ফেরার পথ বেছে নেন। বাকি দুজন এখনও অস্ট্রেলিয়াতেই রয়েছেন।
সংকটের সূত্রপাত মার্চের শুরুতে এশিয়া কাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন। সে সময় আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলায় ইরানি নেতৃত্বের পতনের খবরে জাতীয় সংগীত (National Anthem) গাইতে অস্বীকার করেন ফুটবলাররা। এরপরই দেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তাঁদের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ (Wartime Traitors) বলে দাগিয়ে দেয়। নিরাপত্তার অভাবে ছয়জন খেলোয়াড় ও একজন সাপোর্ট স্টাফ অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয়ের আবেদন জানান।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজ দাবি করেছেন, ফুটবলাররা শত্রুদের চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে মাতৃভূমির (Motherland) টানে ফিরে এসেছেন। এমনকি স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ তাঁদের বিশেষ সংবর্ধনা (Reception) দেওয়ার ঘোষণাও করেছেন। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর (Human Rights Groups) দাবি ভিন্ন। শোনা যাচ্ছে, ফুটবলাররা অস্ট্রেলিয়ায় থেকে গেলে তাঁদের পরিবারের ওপর শারীরিক নির্যাতন ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের (Confiscation of Property) হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এই প্রবল কূটনৈতিক ও পারিবারিক চাপের মুখেই তাঁরা ফিরতে বাধ্য হয়েছেন।
আপাতত দেশে ফেরা ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ (Concern) কাজ করছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়া দুই ফুটবলার স্থানীয় এ-লিগ (A-League) ক্লাবে অনুশীলন শুরু করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।


