রাজনীতি
‘আরে বিমানদা, পিছনে কেন?’ নতুন রাজ্যপালের শপথ অনুষ্ঠানে বিমান বসুকে মমতার বেনজির সৌজন্য
ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজনৈতিক মতাদর্শে তাঁরা একে অপরের প্রবল প্রতিপক্ষ, কিন্তু ব্যক্তিগত শ্রদ্ধাবোধে আজও অটুট বাংলার সংস্কৃতি। বৃহস্পতিবার লোকভবনে (Lok Bhavan) নতুন রাজ্যপাল আর এন রবির (Governor R. N. Ravi) শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে এমনই এক বিরল সৌজন্যের (Courtesy) সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। অনুষ্ঠানের জন্য প্রবীণ বাম নেতা বিমান বসুর (Biman Bose) বসার জায়গা ছিল তৃতীয় সারিতে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সেখানে পৌঁছেই তাঁকে দেখতে পান এবং সটান বলে ওঠেন, “বিমানদা, পিছনে কেন? আপনি সামনে আসুন না।”
মুখ্যমন্ত্রী কেবল আহ্বান জানিয়েই ক্ষান্ত হননি; মেয়রের জন্য বরাদ্দ খালি আসনে জোর করেই ৮৩ বছরের প্রবীণ নেতাকে বসান তিনি। বিধানসভার স্পিকার (Speaker) বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুখ্যসচিবের উপস্থিতিতেই মমতার এই ‘ব্যক্তিগত সম্মান’ প্রদর্শন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। শপথ গ্রহণ শেষ হওয়ার পরেও মমতার সৌজন্য চলতেই থাকে। লোকভবন থেকে বেরোনোর সময় প্রবীণ বিমান বসু যখন রোদ পোহাতে পোহাতে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন, মমতা নিজে তাঁর গাড়ি আসা পর্যন্ত পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। নিজের গাড়ি সামনে থাকা সত্ত্বেও তিনি বলেন, “আগে বিমানদার গাড়ি আসুক, ওঁকে তুলে দিয়ে তারপর আমি উঠব।”
এই নজিরবিহীন আচরণে আবেগপ্রবণ (Emotional) হয়ে পড়েন অশীতিপর বিমান বসু। তিনি কেবল কাঁপা গলায় ‘ধন্যবাদ’ (Thank you) টুকু বলতে পেরেছেন। যেখানে বর্তমান সময়ে বঙ্গ রাজনীতিতে কাদা ছোড়াছুড়ি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার, সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর এই আচরণ বাংলার প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধার এক বিরল বার্তাই বহন করছে। শুভেন্দু অধিকারীর অনুপস্থিতি সত্ত্বেও লোকভবনের এই ঘরোয়া ও সৌজন্যপূর্ণ পরিবেশ উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করেছে।


