ভাইরাল খবর
ভোটার তালিকায় ‘পরিকল্পিত আঘাত’! কমিশনের ফুল বেঞ্চকে ৬ পাতার কড়া চিঠি তৃণমূলের
ডিজিটাল ডেস্কঃ ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। আর প্রস্তুতির শুরুতেই রাজ্যের সংশোধিত ভোটার তালিকা (Voter List) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর প্রবল চাপ তৈরি করল তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner) জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের কাছে ৬ পাতার এক দীর্ঘ দাবিদাওয়া পেশ করেছে শাসকদল। তাঁদের মূল অভিযোগ, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় (SIR) কোনও নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের জমা দেওয়া তথ্যে এক চাঞ্চল্যকর গরমিল সামনে এসেছে। শাসকদলের দাবি, তালিকা থেকে মোট ৬৩,৬৬,৯৫২ জন ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ নাম বাদ দেওয়ার জন্য ‘ফর্ম-৭’ আবেদন (Application) জমা পড়েছিল মাত্র ৪২,২৫১টি। অর্থাৎ আবেদনের তুলনায় প্রায় ১৩ গুণ বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল এই বিচ্যুতিকে কেবল কারিগরি ভুল (Technical Error) নয়, বরং বাংলার গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর এক পরিকল্পিত আঘাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন খোদ শাসকদলের বিধায়ক, মন্ত্রী ও কাউন্সিলররা। তালিকায় নাম ‘ডিলিটেড’ (Deleted) হিসেবে দেখা যাচ্ছে নৈহাটির কাউন্সিলর সুশান্ত সরকার, কুমারগঞ্জের বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডল এবং চণ্ডীতলার বিধায়ক স্বাতী খন্দকারের। এমনকি আমডাঙার বিধায়ক রফিকুর রহমান এবং বীরভূমের কাজল শেখের মতো নেতাদের নামও বিচারপ্রক্রিয়ার (Adjudication) গেরোয় আটকে রয়েছে।
ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং রাজীব কুমারের স্বাক্ষর সম্বলিত ওই চিঠিতে একগুচ্ছ দাবি পেশ করা হয়েছে। তৃণমূলের প্রধান দাবি হলো, ভোটার তালিকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পুনরায় ইআরও (ERO) এবং এআরও (AERO)-দের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে। এছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট এবং আবাস যোজনার নথিকে বাসস্থানের প্রমাণ (Address Proof) হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় কোনও কারিগরি ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন অডিটের (Independent Audit) দাবিও জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
