ভাইরাল খবর
‘আর সময় দেওয়ার লাক্সারি নেই’, কমিশনকে তিরস্কার শীর্ষ আদালতের
ডিজিটাল ডেস্কঃ বেলা ১টার কিছু পর সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) শুরু হয় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এসআইআর (Special Intensive Revision) মামলার শুনানি। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Chief Justice Surya Kant), বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলি ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর এজলাসে আইটেম নম্বর ৩৭-এ একসঙ্গে শোনা হয় মমতার মামলা ও জয় গোস্বামীর দায়ের করা মামলাটি। নজিরবিহীনভাবে (unprecedented) এদিন শুরু থেকেই আদালতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রথমে আইনজীবীরাই সওয়াল করছিলেন। কিছুক্ষণ পর আচমকাই সামনের সারিতে এসে বসেন মমতা। ভার্চুয়ালি সওয়ালে অংশ নেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল। শ্যাম দেওয়ান আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, এখনও প্রায় ৩২ লক্ষ শুনানি বাকি। মাত্র চার দিনে প্রতিদিন ১৫ লক্ষ মানুষের শুনানি কার্যত অসম্ভব (impossible)। মানুষকে চার-পাঁচ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, কাজ-জীবিকা (livelihood) ছেড়ে।
এই সময়েই নিজে সওয়াল করার চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিচারপতিরা তাঁকে সেই সুযোগ দেন। ধন্যবাদ জানিয়ে মমতা বলেন, “আমরা বিচার পাচ্ছি না। আমি কমিশনকে ছয়টি চিঠি লিখেছি, একটিরও উত্তর পাইনি।” নিজেকে “একজন সাধারণ মানুষ” বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর জবাবে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করেন, কোনও নিরীহ মানুষের নাম বাদ পড়ুক, তা আদালত চায় না। নামের বানান (spelling mistake), পরিযায়ী ভোটার, জীবিত মানুষকে মৃত দেখানো—সব বিষয়েই আদালতের উদ্বেগের কথা জানান তিনি।
জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) সময় চাইলেও প্রধান বিচারপতি তা নাকচ করে বলেন, “মাত্র চার দিন বাকি। আর সময় দেওয়ার লাক্সারি (luxury) দেখাতে পারি না।”
এরপর মমতা অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র বিরোধী শাসিত রাজ্যেই এসআইআর করা হচ্ছে, বাংলাকে টার্গেট (target) করা হচ্ছে। মাইক্রো অবজার্ভারদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত আদালত কমিশন ও রাজ্য—দু’পক্ষকেই বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেয়। পরবর্তী শুনানি সোমবার।


