দেশের খবর
৫০ কারখানায় লালবাতি! দিল্লি-ইইউ ডিলে কাঁপছে বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্প
ডিজিটাল ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (European Union / EU) সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি (Free Trade Agreement / FTA) কার্যত দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠছে বাংলাদেশের (Bangladesh) বস্ত্রশিল্পের (textile industry) জন্য। নয়াদিল্লির সঙ্গে ইইউ-র এই ‘মাদার অফ অল ডিল্স’ (Mother of All Deals) সামনে আসতেই ঢাকায় আতঙ্ক। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে পদ্মাপারের সুতো ও কাপড়ের বাজারে। আশঙ্কা, ৫০টির বেশি কারখানায় (factory) লালবাতি জ্বলতে পারে এবং কাজ হারাতে পারেন ১০ লক্ষেরও বেশি শ্রমিক (workers)।
এই পরিস্থিতিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের (indefinite strike) হুমকি দিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল্স অ্যাসোসিয়েশন (BTMA)। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ঢাকায় সাংবাদিক বৈঠকে তারা অন্তর্বর্তিকালীন সরকার (interim government) প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের (Muhammad Yunus) কাছে একগুচ্ছ দাবি তোলে। এর মধ্যে অন্যতম—ভারত থেকে বিনা শুল্কে (duty free) সুতো ও কাপড় আমদানি অবিলম্বে বন্ধ করা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসে ভর্তুকি (subsidy) এবং ব্যাঙ্ক সুদের হার কমানো। দাবি মানা না হলে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ধর্মঘটে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের দাবি, সস্তা ভারতীয় সুতো ও কাপড়ে বাজার ভরে যাওয়ায় ১২,৫০০ কোটি টাকার কাঁচামাল (raw material) গুদামেই নষ্ট হচ্ছে। ইতিমধ্যেই গত দেড় বছরে বন্ধ হয়েছে ৫০টির বেশি মিল, কাজ হারিয়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইইউ-র ২৭টি দেশে বিনা শুল্কে ভারতীয় পোশাক রফতানির (export) সুযোগ তৈরি হলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের আধিপত্য ভেঙে পড়বে। কারণ, বাংলাদেশের জিডিপি-র (GDP) প্রায় ৮০ শতাংশই বস্ত্র রফতানির উপর নির্ভরশীল। ২০২৪ সালে মোট রফতানির ৮৪ শতাংশ এসেছিল এই শিল্প থেকেই।
এদিকে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা (transshipment facility) বাতিল, মার্কিন শুল্ক (US tariff) বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সংকট (power crisis) এবং বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়া—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্প কার্যত চাপে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন (national election) ও গণভোটের (referendum) আগে ভারত-বিরোধিতাকে হাতিয়ার করেই এই ধর্মঘটের হুমকি। তবে ইইউ চুক্তির ফলে ভারতের রফতানি (Indian export) যে আরও শক্তিশালী হবে, তা প্রায় নিশ্চিত।
