ডিজিটাল ডেস্কঃ একটি সন্তান হারানোর শোক যে কোনও মায়ের জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করে। নদিয়ার কালীগঞ্জে (Kaliganj) উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশের দিন বোমাবাজিতে প্রাণ হারানো নাবালিকা তামান্না খাতুনের (Minor Girl Tamanna Khatun) মৃত্যুর পর থেকেই সেই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন তাঁর মা সাবিনা ইয়াসমিন। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখে পড়লেন তিনি। আতঙ্কে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ (Sleeping Pills) খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সাবিনা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে বাড়িতেই একাধিক ঘুমের ওষুধ খান সাবিনা ইয়াসমিন। দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে প্রথমে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে এবং পরে কৃষ্ণনগরের শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে (Shaktinagar District Hospital) ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও মানসিক আঘাত গভীর।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৩ জুন কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের (Kaliganj By-poll) ফল ঘোষণার দিন তৃণমূলের (TMC) বিজয়োৎসব চলাকালীন ছোড়া বোমায় মৃত্যু হয় ৯ বছরের তামান্নার। ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জন গ্রেফতার হলেও পরিবারের দাবি, মোট ২৪ জন অভিযুক্ত। অনেকেই এখনও অধরা থাকায় চরম আতঙ্কে দিন কাটছে তাঁদের। পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তদের ঘনিষ্ঠদের তরফে লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছে (Threat Allegation)।
তামান্নার কাকা রবিউল শেখ জানান, “দিদি প্রতিদিন ভাবত—মেয়ের খুনিরা শাস্তি পাবে তো? যারা ধরা পড়েছে, তারা জামিনে বেরিয়ে এলে আবার হামলা হতে পারে।” এই ভয় থেকেই সাবিনা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) দ্রুত দোষীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং বিষয়টি গড়ায় কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court) পর্যন্ত। পরিবার সিবিআই তদন্তের (CBI Probe) দাবিও জানিয়েছে। তবুও সাত মাস পেরিয়েও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় শোকাহত পরিবার। মেয়েকে হারানোর যন্ত্রণা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ—এই দুইয়ের চাপেই ভয়ংকর সিদ্ধান্তের পথে পা বাড়িয়েছিলেন সাবিনা।