রাজনীতি
সাসপেন্ডের পরই হুঙ্কার—শুক্রবার ইস্তফা দিয়ে নতুন দল আনছেন হুমায়ুন
ডিজিটাল ডেস্কঃ বৃহস্পতিবার দুপুরে বহরমপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সভার আগেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে বড় সিদ্ধান্ত। ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে সাসপেন্ড (Suspend) করা হয়। খবর পৌঁছতেই তিনি সভাস্থল ছাড়েন এবং তৎক্ষণাৎ জানান—শুক্রবার বা সোমবারই তিনি তৃণমূল থেকে ইস্তফা (Resign) দেবেন। শুধু তাই নয়, চলতি মাসের ২২ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে (Murshidabad) নিজের নতুন দল (Own Party) ঘোষণা করবেন বলেও জানিয়ে দেন।
হুমায়ুনের দাবি, তৃণমূল বা বিজেপি (BJP) কারও ভয় না পেয়ে তিনি ১৩৫টি আসনে প্রার্থী দেবেন। দলের কঠোর পদক্ষেপে তাঁর অবস্থান বদলাবে না বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
মূল বিতর্ক ঘিরে তাঁর বাবরি মসজিদ (Babri Masjid) নির্মাণের মন্তব্য। ৬ ডিসেম্বর শিলান্যাসের পরিকল্পনার পরই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে থাকে। তৃণমূলের অভিযোগ—একাধিকবার শোকজ করা হলেও হুমায়ুন দলবিরোধী আচরণ ও উস্কানিমূলক মন্তব্য বন্ধ করেননি। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) জানান, “বিজেপির হয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন তিনি।”
ফিরহাদের প্রশ্ন, “বাবরি মসজিদ গড়তেই হবে কেন? তিনি তো বাবা-মায়ের নামেও মসজিদ (Mosque) করতে পারতেন।” হুমায়ুনের নানা মন্তব্যকে তিনি “উস্কানি” বলে উল্লেখ করেন।
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (Governor Anand Bose) আগেই তাঁর গ্রেফতারের জন্য রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়েছিলেন। বাবরি মন্তব্যের ফলে অশান্তির আশঙ্কায় কড়া নির্দেশ দেন তিনি। তার ঠিক ২৪ ঘণ্টা পরই সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল।
ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক সংঘাত, রাস্তা অবরোধের ডাক এবং এসডিপিও-কে হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন হুমায়ুন। এবার সাসপেন্ড হওয়ার পর সরাসরি নতুন দল নিয়েই এগোচ্ছেন তিনি।


