দেশের খবর
প্রয়াত কিংবদন্তী বিজ্ঞাপন নির্মাতা পীযুষ পাণ্ডে! ‘কুছ খাস হ্যায়’ স্রষ্টার প্রয়াণে শোকের ছায়া বিজ্ঞাপন জগতে
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারতের বিজ্ঞাপন জগতে নেমে এলো শোকের ছায়া। কিংবদন্তি বিজ্ঞাপন নির্মাতা পীযুষ পাণ্ডে (Piyush Pandey) বৃহস্পতিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। ক্যাডবেরির (Cadbury) ‘কুছ খাস হ্যায়’, ফেভিকল (Fevicol), ফেভিকুইক (Fevikwik), এশিয়ান পেইন্টস (Asian Paints) ও এয়ারটেল (Airtel)-এর মতো বহু কালজয়ী বিজ্ঞাপন তাঁরই সৃজনশীল মস্তিষ্কপ্রসূত।
পীযুষ পাণ্ডের হাত ধরেই ভারতীয় বিজ্ঞাপনের (Advertising) ভাষা বদলে যায়। ব্র্যান্ড কমিউনিকেশনের (Brand Communication) জগতে তিনি এনে দেন এক স্বতন্ত্র ভারতীয় কণ্ঠস্বর। তাঁর কাজ শুধু বিজ্ঞাপন নয়— ছিল সংস্কৃতি, আবেগ ও বাস্তব জীবনের গল্পের মিশেল।
বহুমুখী জীবনের সূচনা
বিজ্ঞাপনের জগতে আসার আগে পীযুষ পাণ্ডের জীবন ছিল একেবারে রঙিন ও বৈচিত্র্যময়। একসময় তিনি ক্রিকেটার, চা-পরীক্ষক (Tea Taster) এবং নির্মাণ শ্রমিক (Construction Worker) হিসেবেও কাজ করেছেন।
১৯৮২ সালে, মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি যোগ দেন আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন সংস্থা ওগিলভি (Ogilvy)-তে। তাঁর প্রথম কাজগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল ডিটারজেন্ট ব্র্যান্ড সানলাইট (Sunlight)-এর বিজ্ঞাপন। এরপর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
অমর ক্যাম্পেইনগুলির স্রষ্টা
পীযুষ পাণ্ডের সৃজনশীল হাতে জন্ম নেয় একের পর এক অমর বিজ্ঞাপন ক্যাম্পেইন (Ad Campaign):
-
ক্যাডবেরি: “কুছ খাস হ্যায়”
-
ফেভিকল ও ফেভিকুইক: “তোড়ো নেহি জোড়ো”, “ফেভিকল সোফা”
-
এশিয়ান পেইন্টস: “হর ঘর কুছ কেহতা হ্যায়”
-
এয়ারটেল: “হর এক ফ্রেন্ড জরুরি হোতা হ্যায়”
এছাড়া অমিতাভ বচ্চনের (Amitabh Bachchan) সঙ্গে পোলিও (Polio) সচেতনতা অভিযান এবং ২০১৪ সালের বিজেপি (BJP) প্রচারের জনপ্রিয় ট্যাগলাইন “আবকি বার মোদি সরকার”— সবই তাঁর আইডিয়া।
অর্জন ও সম্মান
তাঁর নেতৃত্বে ওগিলভি ইন্ডিয়া (Ogilvy India) হয়ে ওঠে বিশ্বের অন্যতম পুরস্কৃত বিজ্ঞাপন সংস্থা। ২০১৮ সালে তিনি ও তাঁর ভাই প্রসূন পাণ্ডে (Prasoon Pandey) কান লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অফ ক্রিয়েটিভিটিতে (Cannes Lions International Festival of Creativity) মর্যাদাপূর্ণ ‘Lion of St. Mark’ পুরস্কার অর্জনকারী প্রথম ভারতীয় হন।
ভারতের বিজ্ঞাপন ইতিহাসে পীযুষ পাণ্ডে এক উজ্জ্বল অধ্যায়— যাঁর সৃজনশীলতা আজও অনুপ্রেরণা হয়ে আছে প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে।
