আদিনা মসজিদে দাঁড়িয়ে ছবি পোস্ট, পাঠানকে কটাক্ষ করে ‘আদিনাথ মন্দির’ দাবি নেটিজেনদের
Connect with us

ভাইরাল খবর

আদিনা মসজিদে দাঁড়িয়ে ছবি পোস্ট, পাঠানকে কটাক্ষ করে ‘আদিনাথ মন্দির’ দাবি নেটিজেনদের

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ আদিনা মসজিদে (Adina Mosque) দাঁড়িয়ে ছবি পোস্ট করেই বিতর্কের মুখে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সাংসদ ইউসুফ পাঠান (Yusuf Pathan)। মালদহ (Malda) সফরে গিয়ে ঐতিহাসিক এই স্থাপনার সামনে থেকে একাধিক ছবি এক্স (X)-এ পোস্ট করেন তিনি। ক্যাপশনে লেখেন, “আদিনা মসজিদ ১৪শ শতকে ইলিয়াস শাহি বংশের দ্বিতীয় শাসক সুলতান সিকন্দর শাহ নির্মাণ করেছিলেন। সেই সময় এটি ছিল উপমহাদেশের বৃহত্তম মসজিদ।”

তবে, এই পোস্ট ঘিরেই তৈরি হয় নতুন বিতর্ক। নেটিজেনদের (Netizens) একাংশ দাবি করেন, যেটিকে আজ আদিনা মসজিদ বলা হচ্ছে, সেটিই এক সময় ছিল আদিনাথ মন্দির (Adinath Temple)। অনেকেই দাবি করেন, এই স্থাপনার ভিত তৈরি হয়েছিল একটি প্রাচীন শিবমন্দিরের (Shiva Temple) উপর ভিত্তি করে, যা ধ্বংস করে মসজিদে রূপান্তরিত করা হয়।

Advertisement
ads

সোশ্যাল মিডিয়ায় পাঠানের পোস্টের নিচে একাধিক প্রতিক্রিয়ায় লেখা হয়, “আপনি যে স্থাপনাটির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন, সেটি শিবের আদিনাথ রূপে নির্মিত মন্দির ছিল।” অনেকে আবার মসজিদের দেওয়ালে থাকা হিন্দু দেবতার (Hindu Deity) ভাস্কর্যের ছবি শেয়ার করে লেখেন, “এগুলো আদিনাথ মন্দিরেরই চিহ্ন, ইতিহাস আজও বেঁচে আছে পাথরে।”

কেউ কেউ আরও কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন, “নিজেদের কিছু নির্মাণ করার ইতিহাস নেই, তাই অন্যের ধর্মস্থান দখলকেই সাফল্য ভাবা হচ্ছে।”

ইতিহাসবিদদের (Historians) একাংশ বলেন, ১৩৭৩ থেকে ১৩৭৫ সালের মধ্যে এই মসজিদ নির্মিত হয়েছিল সিকন্দর শাহের আদেশে। এটি ছিল তার সাম্রাজ্যজয়ের স্মারক (Monument of Victory)। তবে, প্রত্নতাত্ত্বিক (Archaeological) গবেষণায় উঠে এসেছে, এই মসজিদ নির্মাণে পাল ও সেন যুগের মন্দিরের পাথর ও স্তম্ভ ব্যবহার করা হয়েছিল।

দেওয়ালে দেখা যায় ঘণ্টা (Bell), মালা (Garland), ফুল (Flower), মুখমণ্ডল (Faces) এবং কৈলাস (Kailash) প্রতীকের অলঙ্করণ— যা হিন্দু স্থাপত্যে ব্যবহৃত হতো। গবেষকদের একাংশ মনে করেন, এই কাঠামো আদতে ছিল শিবমন্দির, যেখানে দেবতার রূপ ছিল ‘আদিনাথ’ অর্থাৎ ‘প্রথম দেবতা’।

Advertisement
ads

এই বিতর্ক নতুন নয়। ২০২৩ সালে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ আইনজীবী হরিশঙ্কর জৈন (Harishankar Jain) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে দাবি করেন, আদিনা মসজিদ হিন্দু মন্দির ধ্বংস করে নির্মিত হয়েছে এবং সেখানে পুজো শুরু করার অনুমতি চাওয়া হয়।

২০২৪ সালে হিন্দু সংগঠনের (Hindu Organizations) একাংশ সেখানে গিয়ে পুজো করার চেষ্টা করে। তরুণ পুরোহিত হিরণ্ময় গোস্বামী দাবি করেন, মসজিদের ভিতরে শিবলিঙ্গ দেখা গিয়েছে। যদিও প্রশাসনের (Administration) হস্তক্ষেপে পুজো বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে আদিনা মসজিদ ভারতের ASI (Archaeological Survey of India)-এর অধীন একটি সংরক্ষিত (Protected) স্থাপনা। তাই আইনি দৃষ্টিকোণে ধর্মীয় কার্যকলাপ নিষিদ্ধ। তবে বাবরি মসজিদ, কাশীর জ্ঞানবাপী কিংবা মথুরার শাহী ইদগাহর মতো, আদিনা মসজিদও এখন ধর্মীয় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement