দেশের খবর
আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে এআই শিক্ষা, নতুন দিশা কেন্দ্রের
ডিজিটাল ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence – AI) এর শক্তিতে আগামী পাঁচ বছরে দেশে ৪০ লক্ষের বেশি নতুন কর্মসংস্থান (employment) সৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে নীতি আয়োগ (NITI Aayog)। শনিবার নীতি আয়োগের সিইও বি ভি আর সুহ্মমণ্যম (BVR Subrahmanyam) একটি বিশেষ রিপোর্ট প্রকাশ করেন, যেখানে এআই কীভাবে কাজের ধরন, কর্মক্ষেত্র এবং কর্মী দের ভূমিকা পরিবর্তন করছে তা তুলে ধরা হয়েছে।
এই আশাব্যঞ্জক তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক (Central Ministry of Education) এক নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী শিক্ষাবর্ষ ২০২৬-’২৭ থেকে প্রাথমিক স্তরের তৃতীয় শ্রেণিতে (Class 3) থেকে এআই শিক্ষাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দেশি যুবসমাজকে এই প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করিয়ে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নেতৃত্ব দিতে সরকারের এই উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নীতি আয়োগের ‘এআই অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান তৈরির রূপরেখা’ শীর্ষক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারত বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। এআই নির্ভর ভবিষ্যতের জন্য তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে একটি সাহসী এবং সুসংগঠিত অ্যাকশন প্ল্যান (Action Plan) অপরিহার্য। এই লক্ষ্য পূরণে ‘জাতীয় এআই ট্যালেন্ট মিশন’ (National AI Talent Mission) চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশ ও বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা সম্ভব হবে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার (Dr. Sukanta Majumdar) বলেন, “মানবসভ্যতার ভবিষ্যতে এআই সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে উঠবে। তাই আমরা পিছিয়ে পড়তে চাই না। শিক্ষার্থীদের মধ্যে এআই সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা গড়ে তুলতেই এই পদক্ষেপ।”
এদিকে, ২০২৬-’২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে এখনও কিছুটা সময় থাকলেও প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। বিশেষ করে শিক্ষকদের (teachers) এআই পদ্ধতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার (adaptation) কাজ দ্রুত গতি পেয়েছে। কেন্দ্রীয় স্কুল শিক্ষা সচিব সঞ্জয় কুমার (Sanjay Kumar) সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রায় এক কোটি শিক্ষককে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করে তোলা। আগামী দুই-তিন বছরে এই কাজ সম্পন্ন করতে হবে।”
শুধু এআই শিক্ষাই নয়, স্কুলগুলিতে ডিজিটালাইজেশন (digitalization) কাজও সমান তালে চলছে। ইউপিআই (UPI) ভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে স্কুলের বেতন জমার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য সুবিধাজনক হবে।


