নাকে জল গেলেই মৃত্যু? আপনার স্নানের জলে লুকিয়ে নেই তো মস্তিষ্ক-খেকো অ্যামিবা?
Connect with us

দেশের খবর

নাকে জল গেলেই মৃত্যু? আপনার স্নানের জলে লুকিয়ে নেই তো মস্তিষ্ক-খেকো অ্যামিবা?

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ করোনা ভাইরাস (Coronavirus), নিপা ভাইরাস (Nipah Virus)— একের পর এক সংক্রমণের (Infection) উৎস হয়ে উঠেছে কেরল। এবার ফের দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে এক ভয়ঙ্কর মারণ জীবাণু (Pathogen)। যার নাম শুনলেই শিউরে উঠবেন— ‘ব্রেন ইটিং অ্যামিবা’ (Brain-eating Amoeba)। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলা হয় Primary Amoebic Meningoencephalitis (PAM), আর এর কারণ Naegleria fowleri নামক একপ্রকার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অ্যামিবা (Amoeba)।

কেরলে ইতিমধ্যেই এই সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৯ জন, মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। ২০২৩ সালের তুলনায় এই বছর সংক্রমণের হার প্রায় ১০০% বেশি। তাই প্রশ্ন উঠছে, এই ভাইরাস (Virus) কি এবার দেশের অন্য প্রান্তেও ছড়িয়ে পড়বে?

PAM কতটা ভয়ঙ্কর?

Naegleria fowleri এমন এক অ্যামিবা যা মানুষের নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে এবং সরাসরি মস্তিষ্কে পৌঁছে ব্রেন টিস্যু (Brain Tissue) ধ্বংস করতে থাকে। ফলে মস্তিষ্ক ফুলে যায়, স্নায়ুতন্ত্র বিকল হতে থাকে এবং দ্রুত মৃত্যুর সম্ভাবনা তৈরি হয়।

চিকিৎসকরা বলছেন, এটি অত্যন্ত বিরল সংক্রমণ হলেও, মৃত্যুহার (Fatality Rate) আশঙ্কাজনকভাবে বেশি। PAM-এর উপসর্গগুলি মেনিনজাইটিসের (Meningitis) মতোই— মাথা ব্যথা, জ্বর, বমি, মাথা ঘোরা ইত্যাদি। তাই প্রাথমিক অবস্থায় সংক্রমণ চিহ্নিত করা কঠিন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীরা চিকিৎসার আগেই জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যান।

Advertisement
ads

কীভাবে ছড়ায় ব্রেন ইটিং অ্যামিবা?

এই অ্যামিবা মূলত উষ্ণ ও স্থির জলে (Warm and Stagnant Water) থাকে।
তাই সংক্রমণ হয় না জলে পান করলে, বরং স্নান বা সাঁতারের সময় নাক দিয়ে জল প্রবেশ করলেই এই সংক্রমণের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্লোবাল ওয়ার্মিং (Global Warming) ও জলবায়ু পরিবর্তনের (Climate Change) ফলে এই অ্যামিবার বেঁচে থাকার ও ছড়ানোর সম্ভাবনা বাড়ছে।

PAM-এর লক্ষণ (Symptoms):

  • মাথা ব্যথা

  • জ্বর

  • বমি

  • মাথা ঘোরা

  • ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া

  • খিঁচুনি

  • সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস

  • ব্রেন ইডিমা (Cerebral Edema)

  • কোমায় চলে যাওয়া

এই লক্ষণগুলি সাধারণত সংক্রমণের ১ থেকে ৯ দিনের মধ্যে দেখা দেয় এবং একবার শুরু হলে মাত্র ঘণ্টা কয়েকের মধ্যে রোগ গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে

চিকিৎসা ও পরীক্ষা:

সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে অ্যান্টি-মাইক্রোবায়াল ককটেল (Anti-microbial Drug Cocktail) ব্যবহার করে PAM নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এই ওষুধ রক্ত-মস্তিষ্ক প্রাচীর (Blood-Brain Barrier) অতিক্রম করতে পারে।

Advertisement
ads

রোগ নির্ণয়ের জন্য CSF টেস্ট (Cerebrospinal Fluid Test) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কেরল সরকারের সতর্কবার্তা:

কেরল সরকার সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছে:

  • পুকুর, ঝিল বা স্থির জলে স্নান না করতে বলা হয়েছে

  • সাঁতার কাটলে নোস ক্লিপ (Nose Clip) ব্যবহারের পরামর্শ

  • কুয়ো ও জলের ট্যাঙ্ক নিয়মিত ক্লোরিন (Chlorine) দিয়ে পরিষ্কার রাখতে বলা হয়েছে

সংক্রমণের পরিসংখ্যান:

  • ২০১৬: প্রথম PAM সংক্রমণের খোঁজ কেরলে

  • ২০২৩: মোট ৩৬ জন আক্রান্ত, ৯ জনের মৃত্যু

  • ২০২৫ (বর্তমান): ৬৯ জন আক্রান্ত, ১৯ জনের মৃত্যু

বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকদের মত:

ডঃ মণীশা অরোরা PAM-কে ‘বিরল কিন্তু মারাত্মক’ সংক্রমণ বলে উল্লেখ করেছেন।
ডঃ শুভজিৎ পাল (CMRI, কলকাতা) বলেছেন, “PAM সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয়।”

Advertisement
ads