১৫ বছর নিখোঁজ, মৃত ধরে কুশপুত্তলিকা দাহ ছেলের; শ্মশান শংসাপত্র দিতে নারাজ কমিটি
Connect with us

উত্তর দিনাজপুর

১৫ বছর নিখোঁজ, মৃত ধরে কুশপুত্তলিকা দাহ ছেলের; শ্মশান শংসাপত্র দিতে নারাজ কমিটি

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ প্রায় দেড়দশক যাবৎ নিখোঁজ বাবা। এতদিন নিখোঁজ থাকার কারণে অবশেষে বাবার কুশপুত্তলিকা (Effigy) দাহ করে প্রতীকী অন্ত্যেষ্টি সম্পন্ন করলেন ছেলে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুনপাড়া এলাকায়। মৃত ঘোষণা না হলেও দীর্ঘদিন বাবার কোনো খোঁজ না থাকায় শেষপর্যন্ত ধর্মীয় আচার পালন করেই তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিলেন পরিবার। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকার বাসিন্দা সঞ্জয় সিংয়ের বাবা রাম অযোধ্যা সিং প্রায় ১৫-১৬ বছর আগে এক পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের পক্ষ থেকে ইসলামপুর থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও করা হয়েছিল, তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তার আর কোনও খোঁজ মেলেনি।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রকৃত মৃতদেহ না থাকলেও ‘কুশপুত্তলিকা দাহ’ (Symbolic Cremation) করে আত্মার শান্তি কামনা করা যায়। সেইমত মঙ্গলবার ইসলামপুর সংলগ্ন ফাটিপুকুর শ্মশানে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় প্রতীকী সৎকার।

Advertisement
ads

তবে এই ঘটনায় জটিলতা তৈরি হয় শ্মশান কমিটির (Crematorium Committee) পর্যায়ে। দাহকার্যের পর পরিবার শ্মশান শংসাপত্র চাইলে, তা দিতে অস্বীকৃতি জানায় কমিটি। কারণ, শারীরিক দেহ ছাড়াই শুধু পুত্তলিকা দাহ করে আইনত শংসাপত্র দেওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

সঞ্জয় সিং জানান, “আমরা কোনও কাগজপত্র বা সুবিধার জন্য নয়, শুধু ধর্মীয় আচার পালনের লক্ষ্যেই এই সৎকার করেছি। তবে ভবিষ্যতে যদি প্রয়োজন হয়, সেই ভাবনা থেকেই সমাজের সকলের সম্মতি নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

এই অদ্ভুতুড়ে ঘটনায় এখন প্রশ্ন উঠছে—প্রথা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাঝে আদৌ কি ভারসাম্য রাখা সম্ভব?

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement