ভাইরাল খবর
প্রধানমন্ত্রী মোদী গয়ায়: জেলে গেলে আর পদে থাকতে পারবেন না কোনো জনপ্রতিনিধি
ডিজিটাল ডেস্কঃ বিহার বিধানসভা ভোটের আগে গয়ায় (Gaya) জনসভা থেকে দুর্নীতিবিরোধী বার্তায় কার্যত বিরোধীদের কড়া নিশানায় নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার (Nitish Kumar)-কে পাশে বসিয়ে মোদী স্পষ্ট জানিয়ে দেন— “যারা জেলে যাবে, তারা আর পদে থাকতে পারবে না।” সংবিধানের ১৩০তম সংশোধনী বিল প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই তিনি একযোগে কংগ্রেস, আরজেডি ও আম আদমি পার্টিকে তুলোধোনা করেন।
মোদী বলেন, “আজ যদি কোনও সরকারি কর্মী দুর্নীতির অভিযোগে কয়েক ঘণ্টার জন্যও গ্রেফতার হন, তাহলে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে সাসপেন্ড হতে হয়। তাহলে মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী কি জেলের ভিতরে বসে ক্ষমতার ভোগ করতে পারেন?” এই মন্তব্যে নাম না করেও স্পষ্টভাবে আক্রমণের মুখে পড়েন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal)। তিনি বলেন, দেশের মানুষ দেখেছেন— জেলের গারদের ভিতর থেকেও কেউ কেউ সরকারি ফাইলে সই করছেন। “এটাই যদি নেতাদের মনোভাব হয়, তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এগোবে কীভাবে?”— প্রশ্ন তুললেন মোদী।
শুধু কেজরিওয়ালই নন, এদিন তির্যক কটাক্ষে রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi), লালুপ্রসাদ যাদব (Lalu Prasad Yadav) ও তাঁর ছেলে তেজস্বী যাদবকেও এক কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই বিল কার্যকর হলে দুর্নীতির অভিযোগে ধৃত কোনও জনপ্রতিনিধি ৩০ দিনের মধ্যে জামিন না পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদ খোয়াবেন।
তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) অবশ্য ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তারা এই বিলের বিরোধিতা করবে এবং যৌথ সংসদীয় কমিটিতে যাবে না। অন্যদিকে, কংগ্রেস, আরজেডি ও বামেদের বিরোধিতা নিয়েও কড়া সুরে মোদী বলেন, “সংবিধানের সম্মান টুকরো টুকরো হতে দেব না। প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী— কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন।”
ভোটের মুখে মোদীর এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র সাড়া ফেলেছে। গয়া থেকে তিনি যে দুর্নীতিকে মূল ইস্যু করে বিরোধীদের ঘায়েল করতে চাইছেন, তা ফের স্পষ্ট হয়ে গেল।


