আত্মহত্যা
স্বামীর হাতে নির্যাতিত, সুভাষগঞ্জে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ হারালেন গৃহবধূ
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভালোবাসার শুরু, কিন্তু শেষটা বিভীষিকার। প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন শ্রাবণী দাস (30) ও সোনা কর্মকার (Sona Karmakar)। কিন্তু দাম্পত্যে সেই প্রেম বদলে যায় শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারে। দীর্ঘদিনের নির্যাতন শেষে অবশেষে মৃত্যুকে বেছে নিতে বাধ্য হলেন ওই গৃহবধূ। রবিবার রায়গঞ্জের (Raiganj) সুভাষগঞ্জের দাসপাড়া এলাকায় ঘটে মর্মান্তিক এই ঘটনা। আত্মঘাতী হন শ্রাবণী, অভিযুক্ত স্বামীকে ধরে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে মারধর করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে খবর, প্রায় ১৫ বছর আগে প্রেমপর্ব শেষে বিয়ে করেন শ্রাবণী ও সোনা। তাঁদের একটি সন্তানও রয়েছে। তবে সংসারজীবন সুখের ছিল না। পরিবার সূত্রে অভিযোগ, সোনা কর্মকার কাজ করতেন না। শ্রাবণী টিউশন পড়িয়ে যা সামান্য আয় করতেন, তা দিয়েই কোনওরকমে চলছিল সংসার।
সম্প্রতি এই দাম্পত্য অশান্তি আরও চরমে ওঠে। অভিযোগ, প্রায় দিনই স্বামী মারধর করতেন শ্রাবণীকে। পাড়ার মানুষজন একাধিকবার মধ্যস্থতা করে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি বদলায়নি। রবিবার দুপুরেও শ্রাবণীর উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। এমনকি তাঁর গায়ে আগুন লাগিয়ে মারধরের চেষ্টাও হয় বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুনঃ বিহারে রক্তঝরা ভোটের প্রস্তুতি! ২৪ ঘণ্টায় খুন ৩, সরকার-বিরোধী তরজা চরমে
শেষ পর্যন্ত অপমান ও যন্ত্রণায় ক্লান্ত শ্রাবণী দৌড়ে চলে যান বাড়ির কাছের রেললাইনে। সেখানেই তেলতা থেকে রাধিকাপুরগামী DMU প্যাসেঞ্জার ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন তিনি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।
খবর ছড়াতেই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা সোনা কর্মকারকে ধরে প্রথমে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে রাখেন, এরপর শুরু হয় গণধোলাই। পরে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে এবং মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়।
স্থানীয় উপপ্রধানের প্রতিনিধি রানা রক্ষিত (Rana Rakshit) জানান, “এই ঘটনার কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। এক নারীর জীবনে এমন পরিণতি মেনে নেওয়া যায় না।” রায়গঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, নির্যাতনের বিরুদ্ধে কি যথাসময়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল? সমাজ কি আরও এক নারীর আর্তনাদ শুনতে ব্যর্থ হল?
