ভাইরাল খবর
দ্বিতীয় বিয়ের পর খুনের হুমকি! শান্তিপুরের তৃণমূল সভাপতি সুব্রত সরকারকে সরাল দল
ডিজিটাল ডেস্কঃ ব্যক্তিগত বিতর্ক থেকে শুরু করে খুনের হুমকি— একাধিক অভিযোগে জর্জরিত হয়ে পদ খোয়ালেন নদিয়ার শান্তিপুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি সুব্রত সরকার (Subrata Sarkar)। দলীয় শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পরেই তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিল তৃণমূল নেতৃত্ব। আসন্ন নির্বাচনকে মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ বলে মত রাজনৈতিক মহলের।
জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে দ্বিতীয়বার বিবাহ করেন সুব্রত সরকার। অভিযোগ, তিনি প্রথম পক্ষের স্ত্রীর বিষয়ে সম্পূর্ণ তথ্য গোপন রেখেই দ্বিতীয় স্ত্রীকে বিবাহ করেছিলেন। এই বিষয়টি জানাজানি হতেই শুরু হয় তীব্র পারিবারিক কলহ। অভিযোগ, প্রথম বিয়ের বিষয় জানতে পেরে প্রতিবাদ করলে, দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীকে ভয় দেখানো হয়। এমনকি তাঁর অভিযোগ, সুব্রত তাঁকে মারার হুমকি দেন। শেষমেশ শান্তিপুর থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ ফের শিক্ষাঙ্গনে কেলেঙ্কারি! কাকদ্বীপ কলেজে ইউনিয়ন রুমে মাসাজ কাণ্ডে শোরগোল
এই ঘটনার কথা সামনে আসতেই দলে অস্বস্তি বাড়ে। কারণ এর আগেই মেদিনীপুরে তৃণমূল নেত্রী বেবি কোলে এক বাম সমর্থক বৃদ্ধকে প্রকাশ্যে মারধর করার অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)— “No compromise with image”। সেই দৃষ্টান্তেই এবার পদ হারালেন সুব্রত সরকার।
রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় (Debashis Gangopadhyay) জানিয়েছেন, ‘‘বিতর্ক তৈরি হওয়ায় আপাতত সুব্রতকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ যদিও অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার দাবি, তিনি এখনও অফিসিয়ালি কোনও অপসারণপত্র পাননি।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে এখন থেকেই কড়া নজর রাখছে ঘাসফুল শিবির। দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় কোনও গাফিলতি চাইছে না তৃণমূল। তাই এই ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন দেখার, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সুব্রত সরকারের বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপ নেয় কিনা দল।
