ডিজিটাল ডেস্কঃ মেদিনীপুরের বুকে জন্ম নেওয়া অজস্র বিপ্লবীর আত্মত্যাগকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ বলে চিহ্নিত! এমনটাই লেখা রয়েছে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Vidyasagar University) স্নাতক স্তরের ষষ্ঠ সেমিস্টারের ইতিহাস প্রশ্নপত্রে। ১২ নম্বর প্রশ্নে লেখা হয়েছে— “মেদিনীপুরের সেই তিন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নাম লেখো, যাঁরা সন্ত্রাসবাদীদের (Terrorists) হাতে নিহত হয়েছিলেন।” এই একটিই বাক্য ঘিরে রাজ্যে তীব্র বিতর্ক। একদিকে শিক্ষাবিদ, অন্যদিকে রাজনৈতিক মহল— সকলেই প্রতিবাদে সরব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের বক্তব্য, এভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অপমান করা ইতিহাসের ভুল ব্যাখ্যা। এক অধ্যাপক জানিয়েছেন, “এই প্রশ্ন শুধু দুঃখজনক নয়, অবমাননাকরও। দেশের ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায়কে বিকৃত করা হয়েছে। যিনি এই প্রশ্নপত্র তৈরি করেছেন, তাঁর ব্যাখ্যা অবশ্যই জনসমক্ষে আনা উচিত।” একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, মডারেশন কমিটি কোথায়? কেন কারও নজরে এল না এই বিতর্কিত শব্দ?
আরও পড়ুনঃ নামিবিয়ার সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মানে ভূষিত নরেন্দ্র মোদী, ভারত-নামিবিয়া সম্পর্কের নতুন ইতিহাস
ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। উপাচার্যের তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থার কাছ থেকে সম্পূর্ণ রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। রিপোর্ট জমা পড়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে বিজেপি (BJP) ই-মেল করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর কাছে অভিযোগ জানিয়ে কড়া ভাষায় প্রশ্ন তুলেছে, “স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলা কি তৃণমূল সরকারের মৌন সম্মতির ফল?” পাল্টা তৃণমূল অবশ্য জানিয়ে দিয়েছে, এই ঘটনাকে সমর্থন করা যায় না।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছে, গুগল ট্রান্সলেট বা অনুবাদ সফটওয়্যারের অপব্যবহারেই হয়তো এই শব্দচয়ন, তবে তার দায় এড়াতে পারে না বিশ্ববিদ্যালয়। কারণ ১৯৩১-৩৩ সালের মধ্যে মেদিনীপুরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেমস পেডি, রবার্ট ডগলাস এবং বার্নাড বার্জ যাঁরা শহিদ হয়েছিলেন, তাঁদের হত্যাকারীরা ‘বিপ্লবী’ ছিলেন, ‘সন্ত্রাসবাদী’ নয়। অনাথবন্ধু পাঁজা, মৃগেন দত্ত, নির্মলজীবন ঘোষ, ব্রজকিশোর চক্রবর্তী, প্রভাংশুশেখর পাল— এঁরা ছিলেন দেশমাতৃকার জন্য আত্মত্যাগকারী।
স্বাধীনতার এত বছর পরও সেই বিপ্লবীদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে অপমান করার ঘটনায় মেদিনীপুরবাসী স্তম্ভিত। প্রশ্ন উঠছে— আজ যদি প্রশ্নপত্রেই এমন ভাষা লেখা হয়, তবে ভবিষ্যতের ইতিহাস কোন পথে হাঁটবে?