ডিজিটাল ডেস্কঃ পাটনার বুকে ফের রক্তাক্ত রাজনীতি। শুক্রবার গভীর রাতে শহরের অভিজাত এলাকা গান্ধী ময়দানে (Gandhi Maidan, Patna) গুলি করে খুন করা হল নামী ব্যবসায়ী ও বিজেপি নেতা গোপাল খেমকাকে (Gopal Khemka)। আততায়ীরা খুব কাছ থেকে গুলি চালায় তাঁর উপর। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই নেতার।
জানা গিয়েছে, রাত প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে নিজের গাড়ি থেকে নামার সময় গোপাল খেমকাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বাইক আরোহী দুষ্কৃতীরা। ঘটনাটি ঘটে টুইন টাওয়ার আবাসনের সামনে, পনাশ হোটেলের লাগোয়া এলাকায়। নিহত বিজেপি নেতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পাটনার বিখ্যাত মাগধ হাসপাতাল ও ব্যাঙ্কিপুর ক্লাবের পরিচালন ব্যবস্থায়।
ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলি এবং একটি কার্তুজের খোল উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাটনা সিটি এসপি দীক্ষা কুমারী (Diksha Kumari) জানান, ‘‘খুনের তদন্তে একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ চলছে।’’
আরও পড়ুনঃ শহিদ দিবসের ঠিক আগে ময়দানে মোদি, বারাসত বা দমদমে হতে পারে জনসভা
তবে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন গোপাল খেমকার দাদা শঙ্কর খেমকা (Shankar Khemka)। তাঁর অভিযোগ, “ভাইকে গুলি করা হয় রাত ১১টা ৪০ মিনিটে, কিন্তু পুলিশ আসে প্রায় ৩ ঘণ্টা পরে, রাত ২টা ৩০-এ। এটা কি রাজ্য পুলিশের দায়িত্বশীলতা?”
ঘটনার জেরে রাজ্যের শাসকদল জেডিইউ এবং মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে নিশানা করেছেন পূর্ণিয়ার নির্দল সাংসদ পাপ্পু যাদব (Pappu Yadav)। তাঁর বক্তব্য, “বিহার এখন অপরাধীদের জন্য স্বর্গ। যদি ২০১৮ সালে গোপাল খেমকার ছেলের খুনিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তবে আজ তাঁর প্রাণ যেত না।”
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে গোপাল খেমকার ছেলে গুঞ্জন খেমকা (Gunjan Khemka) একইভাবে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আজও সেই মামলার তদন্ত অন্ধকারেই রয়ে গিয়েছে।
নির্বাচনের মুখে এই খুন বিহারের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।