কোভিডে ফের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ, রাজ্যে সরকারি হাসপাতালে অক্সিজেন মক ড্রিল শুরু
Connect with us

করোনাভাইরাস

কোভিডে ফের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ, রাজ্যে সরকারি হাসপাতালে অক্সিজেন মক ড্রিল শুরু

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্ক: দেশে ফের একবার বাড়ছে কোভিড সংক্রমণ। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৪ হাজার ৩০২-তে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার থেকে পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে মক ড্রিল। রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রের তরফে মঙ্গলবারই বার্তা গিয়েছিল, রাজ্যগুলিকে প্রস্তুত থাকতে হবে। তার প্রেক্ষিতে রাজ্যে শুরু হয় পরিকাঠামো যাচাইয়ের কাজ। উল্লেখ্য, ২ এবং ৩ জুন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার ডিজি ডা. সুনীতা শর্মা (Sunita Sharma) একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করেন। ওই বৈঠকে কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর, এমার্জেন্সি রেসপন্স টিম, এনসিডিসি, আইসিএমআরের আধিকারিক ছাড়াও প্রতিটি রাজ্যের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে একমত হয়েছেন সবাই—নতুন প্রজাতির ভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮২৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও চিকিৎসকদের বক্তব্য, অধিকাংশ আক্রান্তই মৃদু উপসর্গে ভুগছেন এবং বাড়িতেই সুস্থ হয়ে উঠছেন। কিন্তু যাঁদের কিডনি, ক্যানসার বা অন্যান্য কো-মর্বিডিটি রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। জানুয়ারির পর থেকে এখনও পর্যন্ত দেশে কোভিডে মৃত্যু হয়েছে ৪৪ জনের, যাঁদের প্রত্যেকেরই ছিল পূর্বের শারীরিক সমস্যা।

কেন্দ্রীয় নির্দেশে রাজ্যগুলিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:

Advertisement
ads
  • হাসপাতালগুলিতে যথেষ্ট পরিমাণে অক্সিজেন মজুত রাখতে হবে

  • আইসোলেশন বেড ও ভেন্টিলেটর প্রস্তুত রাখতে হবে

  • প্রবীণ নাগরিকদের বিশেষ নজরে রাখতে হবে

সতর্কবার্তা সাধারণের উদ্দেশ্যে:
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে—জ্বর-সর্দি-কাশি হলে বাইরে না বেরনোই শ্রেয়। জনবহুল জায়গা এড়িয়ে চলা উচিত। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা জরুরি।

রাজ্যে কোভিড সংক্রমণের হাল:
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের (North Bengal Medical College) এক চিকিৎসক কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। সোমবার থেকে উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর নমুনা পরীক্ষা করে সংক্রমণ ধরা পড়ে। বর্তমানে তিনি বাড়িতেই আইসোলেশনে রয়েছেন।

অন্যদিকে, দক্ষিণ শহরতলির পিয়ারলেস হাসপাতালে (Peerless Hospital) ভর্তি হয়েছে এক সাত মাসের শিশু। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সংযুক্তা দে (Dr. Sanyukta Dey)-র অধীনে চিকিৎসাধীন সে। শিশুটির মধ্যে জ্বর, অরুচি ও শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। ভাইরাল প্যানেল টেস্টেই ধরা পড়ে কোভিড সংক্রমণ।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নতুন প্রজাতিতে পেট ব্যথা, গা-হাত-পায়ে যন্ত্রণা, পাতলা পায়খানার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। অনেকেই সাধারণ ফ্লু ভেবে গুরুত্ব দিচ্ছেন না এবং পরীক্ষা করাচ্ছেন না। ফলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

Advertisement
ads