‘ধর্ম রক্ষা’র মুখোশ খুলছে? ওয়াকফ আন্দোলনের নেতা এবার পিরের জমি নিয়ে বিতর্কে
Connect with us

ধর্ম

‘ধর্ম রক্ষা’র মুখোশ খুলছে? ওয়াকফ আন্দোলনের নেতা এবার পিরের জমি নিয়ে বিতর্কে

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্ক: একদিকে কেন্দ্রীয় সরকার যখন ওয়াকফ সংশোধনী বিল (Waqf Amendment Bill) নিয়ে তীব্র বিরোধিতার মুখে, তখন সেই আন্দোলনের প্রথম সারিতে থাকা এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধেই উঠল পিরের জমি দখলের অভিযোগ! ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ায় (Hariharpara)।

অভিযুক্ত তৃণমূল ব্লক সভাপতি আখতারউদ্দিন মণ্ডল (Akhtaruddin Mondal)। অভিযোগ এনেছেন স্বয়ং তাঁরই দলের নেতা সফিকুল ইসলাম (Sofikul Islam)। তাঁর দাবি, হরিহরপাড়ার তাদপুর (Tadpur) গ্রামে অবস্থিত এক ঐতিহ্যবাহী পিরের জমি নিজের নামে লিখিয়ে নিয়েছেন আখতারউদ্দিন। সফিকুলের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় ভূমি দফতরের (BLLRO) কর্মীদের ব্যবহার করেই ওই জমি দখল করেন ব্লক সভাপতি।

অথচ, কয়েক মাস আগেই ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষার দাবিতে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনে সোচ্চার হয়েছিলেন আখতারউদ্দিন মণ্ডল। বলেছিলেন, “মুসলিমদের ধর্মীয় সম্পত্তি সরকার কেড়ে নিচ্ছে, আমরা তা হতে দেব না।” সেই সময় তাঁকে মুসলিম সমাজের স্বার্থরক্ষাকারী হিসেবে দেখা হয়েছিল। এখন সেই তিনিই পিরের জমি কব্জা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠায় বিস্মিত স্থানীয় বাসিন্দারা।

আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানে মন্দিরের জমি দখলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ হিন্দুদের

Advertisement
ads

সোমবার, BLLRO অফিসে স্মারকলিপি জমা দেন সফিকুল। অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন আধিকারিকরা। পরে সাংবাদিকদের সফিকুল বলেন, “এই ঘটনা প্রমাণ করে ব্লক সভাপতি দুর্নীতিগ্রস্ত। তিনি ধর্মীয় সম্পত্তি দখল করেছেন। এমন লোকের তৃণমূল দলে থাকা উচিৎ নয়। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) -কে অনুরোধ করব, উনাকে অবিলম্বে পদ থেকে সরান।”

পালটা প্রতিক্রিয়ায় আখতারউদ্দিন বলেন, “সফিকুল আগে কংগ্রেস করতেন। এখন তৃণমূলে এসেছেন। আমার প্রতি তাঁর বহুদিনের আক্রোশ আছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই এই অভিযোগ তোলা হচ্ছে।”

তবে প্রশ্ন উঠছে, ধর্মীয় জমি রক্ষার দাবিতে যিনি সরব ছিলেন, তিনিই কীভাবে এক পিরের জমি ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করতে পারেন? তৃণমূল নেতৃত্ব এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেনি। তবে দলীয় স্তরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, “একদিকে সরকারকে দোষারোপ, অন্যদিকে নিজেরাই ধর্মীয় জমি দখল করছেন — এটা ভন্ডামি।” এই ঘটনা দলীয় নৈতিকতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিল, বলছে রাজনৈতিক মহল।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement