পাঁচ সংকটের বিশ্লেষণে রাজ্য সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী
Connect with us

ভাইরাল খবর

পাঁচ সংকটের বিশ্লেষণে রাজ্য সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারে (Alipurduar) এক জনসভায় বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তবে এদিন আর ‘দিদি… ও দিদি’ সুরে পুরনো কৌশল ফিরিয়ে আনলেন না তিনি। বরং সরাসরি নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সরকারের বিরুদ্ধে ‘নির্মমতা’র অভিযোগ তুলে বাংলার পাঁচটি প্রধান সংকটের কথা তুলে ধরেন।

পাঁচ সংকটে বাংলার ভবিষ্যৎ: প্রধানমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
মোদি বলেন, “এখন বাংলার সামনে পাঁচটা বড় সংকট। প্রথমত, হিংসা আর অরাজকতা। দ্বিতীয়ত, মা-বোনেদের উপর নিপীড়ন ও নিরাপত্তাহীনতা। তৃতীয়ত, যুবসমাজের কর্মসংস্থানের অভাব ও হতাশা। চতুর্থ, দুর্নীতির পাহাড়। আর পঞ্চম সংকট—গরিবদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার তৃণমূলের (TMC) স্বার্থপর রাজনীতি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “মালদা-মুর্শিদাবাদের ঘটনা প্রমাণ করে কী নির্মম এই সরকার। গরিব মানুষের জীবনের সঞ্চয় পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়েছে। শাসকদলের নেতা-জনপ্রতিনিধিরা বাড়িতে আগুন দিচ্ছে, আর পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখছে! এভাবে একটা রাজ্য চলে?”

আরও পড়ুনঃ উত্তর বাংলায় সিটি গ্যাস পরিষেবা চালু, বললেন মোদি—“বাংলার উন্নয়নই ভারতের ভিত্তি”

Advertisement
ads

সিটি গ্যাস প্রকল্প উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত ওই জনসভায় মোদি বাংলার সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক গুরুত্বও তুলে ধরেন। বলেন, “বাংলা ছাড়া ভারতের ভবিষ্যৎ কল্পনা করা যায় না। বিকাশের জন্য দরকার সুশাসন, আর সেটা একমাত্র বিজেপিই দিতে পারে।” শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেন, “এই দুর্নীতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে যুবসমাজের ওপর। হাজার হাজার শিক্ষকের পরিবারকে ধ্বংস করে দিয়েছে এই সরকার। এটা শুধু ভবিষ্যৎ নয়, একটা গোটা প্রজন্মের প্রতি মহাপাপ।”

অনেকে ধারণা করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী এদিন বাংলাদেশের (Bangladesh) দিকেও ইঙ্গিত করতে পারেন। তবে মোদি সরাসরি ঢাকা প্রসঙ্গে কিছু বলেননি। বরং অপারেশন সিঁদুর এবং জঙ্গি মোকাবিলা প্রসঙ্গে পাকিস্তানকেই কটাক্ষ করেন। বলেন, “এই বাংলা সিঁদুর খেলার ভূমি, এখানে দাঁড়িয়ে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতেই হবে।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, এদিনের বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী কিছুটা সংযত ছিলেন। অতীতের তুলনায় শ্লেষ ও আক্রমণের মাত্রা কম ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ভোট এখনও অনেক দূরে। তাই এই মুহূর্তে জনসংযোগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বিজেপি। তবে নির্বাচন যত এগোবে, ততই ভাষার ধার বাড়তে পারে বলেই ধারণা।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement