পুলিশই যখন অপরাধী,অপহৃত ব্যবসায়ী উদ্ধার, অভিযুক্ত পুলিশের এএসআই
Connect with us

বিনোদন

পুলিশই যখন অপরাধী,অপহৃত ব্যবসায়ী উদ্ধার, অভিযুক্ত পুলিশের এএসআই

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ হুগলি জেলার বৈদ্যবাটি এলাকায় চাঞ্চল্যকর অপহরণ কাণ্ডে অবশেষে উদ্ধার করা হল অপহৃত এক ব্যবসায়ীকে। কিন্তু ঘটনায় সবচেয়ে বড় চমক — অপহরণকারী কেউ অপরাধ জগতের সদস্য নয়, তিনি নিজেই পুলিশ আধিকারিক! চন্দননগর আদালতে কর্মরত এক এএসআই এই অপহরণের নেপথ্যে ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

অভিযুক্তের নাম অশোক দাস। তিনি চন্দননগর আদালতে সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর (ASI) পদে কর্মরত। সোমবার ভোরে বৈদ্যবাটির পদ্মাবতী কলোনির বাসিন্দা ৬৪ বছরের ব্যবসায়ী তারক ভৌমিককে অপহরণ করা হয়। তিনি পিয়ারাপুর দিল্লি রোডের পাশে একটি চায়ের দোকান চালাতেন। অভিযোগ, সেই দোকান থেকেই তাঁকে একটি গাড়িতে তুলে অপহরণ করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের কিছুক্ষণ পরই তাঁদের কাছে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন আসে। অপর প্রান্ত থেকে এক পুরুষ কণ্ঠ মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করে ৩০ লক্ষ টাকা। হঠাৎ করে এমন ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়ে পরিবার। এরপর তারা শ্রীরামপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করে।

আরও পড়ুনঃবাংলা নববর্ষেই ইডির বড়সড় সাফল্য, সীমান্ত থেকে ধরা পড়ল পাসপোর্ট জালিয়াতির পান্ডা

Advertisement
ads

অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ প্রযুক্তির সাহায্যে তদন্ত শুরু করে। মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করতে গিয়ে চমকে ওঠেন তদন্তকারীরা। ফোনের লোকেশন পাওয়া যায় শ্যাওড়াফুলি স্টেশন এলাকায়। দ্রুত সেখানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করে অভিযুক্ত অশোক দাসকে। তাঁকে জেরা করতেই সামনে আসে প্রকৃত পরিচয় এবং অপহৃত ব্যক্তির অবস্থান। অশোকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শ্যাওড়াফুলির রাজাবাগান এলাকার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় অপহৃত ব্যবসায়ীকে। তখনও তাঁর হাত বাঁধা ছিল। উদ্ধার করার পর তাঁকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। তবে তিনি সুস্থ আছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনার জেরে প্রশ্ন উঠেছে—একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক এমন গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়লেন কীভাবে? কী তার পেছনে কারণ? ৩০ লক্ষ টাকার প্রয়োজনীয়তাই বা কী?

চন্দননগর পুলিশ কমিশনার অমিত পি জাভালগি জানিয়েছেন, অভিযুক্ত এএসআই অশোক দাসের বিরুদ্ধে কড়া বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিন তাঁকে শ্রীরামপুর আদালতে তোলা হয়। এই ঘটনায় ‘রক্ষকই ভক্ষক’—এই পুরনো প্রবাদ আবারও বাস্তব হয়ে উঠল হুগলিতে। জনসাধারণের নিরাপত্তার দায়িত্ব যাঁর কাঁধে, তিনিই এভাবে আইনের অপব্যবহার করবেন, তা ভাবতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।

Advertisement
ads