রাজনীতি
ত্রিপুরায় পা রাখতেই পুলিশি বাধা, ‘গেরুয়া সন্ত্রাস’-এর প্রতিবাদে বিমানবন্দরে বসে পড়লেন তৃণমূলের প্রতিনিধিরা
ডিজিটাল ডেস্কঃ ত্রিপুরা (Tripura) পৌঁছেই বিমানের দরজা পেরোনো মাত্র শুরু হল বাধা—এমনটাই অভিযোগ তৃণমূল (TMC) প্রতিনিধি দলের। বিধ্বস্ত পার্টি অফিস ঘিরে প্রতিবাদ জানাতে পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বুধবার সকালে আগরতলা (Agartala) পৌঁছন তৃণমূল প্রতিনিধি দল। কিন্তু সেখানে পৌঁছেই তাঁরা পড়েন পুলিশের বাধায়।
আইনশৃঙ্খলার অবনতির অজুহাতে (Law and Order Concern) তাঁদের বিমানবন্দর (Airport) চত্বরে আটকে দেয় পুলিশ। প্রিপেড ট্যাক্সি (Prepaid Taxi) বা অটো বুক করার সুযোগও নাকি দেওয়া হয়নি।
এই ঘটনার প্রতিবাদে বিমানবন্দরের বাইরে ধর্নায় বসেন তৃণমূলের কুণাল ঘোষ, সায়নী ঘোষ, প্রতিমা মণ্ডল, সুদীপ রাহা, সুস্মিতা দেব ও বীরবাহা হাঁসদা।
কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) জানান, তাঁদের জন্য চারটি গাড়ির ব্যবস্থা থাকার কথা থাকলেও সেখানে পৌঁছে জানতে পারেন, একটি মাত্র গাড়ি রাখা হয়েছে। তাও পুলিশের তরফে নির্দেশ—সবাইকে একসঙ্গে যেতেই হবে।
প্রাকৃতিকভাবেই তা সম্ভব না হওয়ায় কুণাল পুলিশের সঙ্গে কথা বললেও কোনও সমাধান হয়নি।
এরপর নেতারা নিজেরাই প্রিপেড ট্যাক্সি বা অটোতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু অভিযোগ, তৃণমূল নেতা (TMC leaders) পরিচয় জানার পর তাঁদের গাড়ি বা অটো বুক করতেও দেওয়া হয়নি।
পরিস্থিতির কোনও সমাধান না মেলায় তারা বিমানবন্দরের বাইরে বসেই ধর্নায় (Protest Sit-in) বসে পড়েন।
বীরবাহা হাঁসদা (Birbaha Hansda) বলেন—
“বিজেপি নেতারা বলেন বাংলা সুরক্ষিত নয়। কিন্তু এখানে আমরা দেড় ঘণ্টা বসে থেকেও গাড়ি পাচ্ছি না! বাংলায় গিয়ে দেখুন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কেমন কাজ করে।”
সায়নী ঘোষ (Sayani Ghosh) আরও বলেন—
“এটা ত্রিপুরা সরকারের ব্যর্থতা। আমাদের পার্টি অফিস ভাঙা হয়েছে, সেই প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। আর তাতেই এই বাধা। বাংলায় আপনারা রোজ যান, আমরা তো কাউকে আটকাই না!”
ঘটনার প্রেক্ষিতে তৃণমূল নেতৃত্ব ‘গেরুয়া সন্ত্রাস’ (Saffron Terror) এবং গণতন্ত্রের নামে রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ তুলেছে। পাল্টা বিজেপি যদিও এই প্রতিবাদকে “রাজনৈতিক নাটক” বলে ব্যাখ্যা করেছে।
