ভাইরাল খবর
ফোনে মা-স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকি, FIR-এর পরেও পুলিশের নীরবতা ঘিরে বিতর্ক
ডিজিটাল ডেস্ক: অবশেষে প্রকাশ্যে এল অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)–এর বিরুদ্ধে বোলপুর থানার (Bolpur Police Station) আইসির (IC) দায়ের করা এফআইআরের (FIR) প্রতিলিপি। সেই এফআইআরে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে— শুধুমাত্র অভিযোগের দিন নয়, আগেও ফেসটাইম (Facetime)–এর মাধ্যমে ওই আইসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল।
এফআইআরের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগকারী আইসি (IC) জানিয়েছেন, ঘটনার দিন তিনি বোলপুর থানার নিজের অফিস কক্ষে সরকারি কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সেই সময় তাঁর সরকারি নম্বরে ফেসটাইম কল আসে। ওপাশ থেকে কথা বলেন অনুব্রত মণ্ডল। যে ফেসটাইম আইডি থেকে ফোন করা হয়েছিল, আগে সেখান থেকেই একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আইসি। অভিযোগ, ফোনে অনুব্রত মণ্ডল আইসির মা ও স্ত্রীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ধর্ষণের হুমকি দেন। শুধু তাই নয়, তিনি আইসিকে বলপ্রয়োগ করে থানার বাইরে এনে হেনস্থা করার হুমকিও দেন।
আরও পড়ুনঃ ‘পাগলু’র অভিনয় আর কত? ঘাটালবাসীর ক্ষোভ, মাস্টার প্ল্যান নিয়ে দেবকে কড়া কটাক্ষ বিজেপি বিধায়কের
আইসির দাবি, ওই সময় থানার সহকারী সাব–ইনস্পেক্টর (ASI) পুরো কথোপকথন অন্য এক মোবাইলে রেকর্ড করে রাখেন। সেই অডিয়ো পরে ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। অডিও প্রকাশ্যে আসার পরেই দায়ের হয় বোলপুর থানার ২৫০/২০২৫ নম্বরের এফআইআর।
তবে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও দৃশ্যমান কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সূত্রের খবর, শুধু একবার তাঁকে থানায় ডেকে জেরা করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। বরং পাল্টা অভিযোগকারী আইসির দুটি ফোন বাজেয়াপ্ত করে ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এমনকী, অভিযোগকারী আইসির বিরুদ্ধেই বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই ঘটনায় পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক মহল। পাশাপাশি, এফআইআরে এত বড় অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও শাসক দল তৃণমূল (TMC) বা প্রশাসনের নীরবতা ঘিরে জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
