ডিজিটাল ডেস্কঃ আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (RG Kar Medical College) প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের (Sandip Ghosh) বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির মামলায় বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। এবার তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিচার প্রক্রিয়া (Prosecution Sanction) শুরু করার জন্য এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে (ED) অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এক্স (X) হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “আরজি কর হাসপাতালে বোন অভয়ার নৃশংস খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় তৎকালীন সুপার সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আইনি পদ্ধতি অনুযায়ী ইডিকে ব্যবস্থা গ্রহণ করে দোষী সাব্যস্ত করার অনুমতি দেওয়া হল।” পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বতন তৃণমূল সরকার দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত প্রক্রিয়া আটকে রেখেছিল।
সরকারি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, মামলার সমস্ত নথি, এফআইআর (FIR), তদন্ত রিপোর্ট এবং তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখার পরই এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআইয়ের (CBI) অ্যান্টি-করাপশন ব্রাঞ্চ (Anti-Corruption Branch) এই মামলার তদন্ত শুরু করে। পরে ইডিও পিএমএলএ (PMLA) আইনে পৃথক তদন্ত শুরু করে।
Advertisement
তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, আরজি কর হাসপাতালে সরঞ্জাম কেনা, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন পরিষেবা চুক্তিতে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে। তদন্তে ‘মা তারা ট্রেডার্স’, ‘ঈশান ক্যাফে’ এবং ‘খামা লৌহ’-সহ একাধিক সংস্থার নামও উঠে এসেছে।
এরই মধ্যে রাজ্য সরকার কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করেছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমকেও তলব করা হয়েছে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই প্রশাসনিক অনুমোদনের ফলে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে ইডি ও সিবিআইয়ের তদন্ত আরও দ্রুত এগোবে। একইসঙ্গে আরজি কর কাণ্ডে দোষীদের শাস্তির দাবিতে নতুন করে চাপ বাড়ল বলেও মনে করা হচ্ছে।