ইডি আদালতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জানায়, মন্ত্রী নাকি মামলার সাক্ষীদের প্রভাবিত করছেন। সেই কারণে চন্দ্রনাথকে সাত দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হয়েছে। তবে মন্ত্রীর পক্ষের আইনজীবী আদালতের কাছে সময় চেয়ে নেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী 12 সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইডির আবেদনের জবাব দিতে হবে চন্দ্রনাথ সিনহাকে। মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য হয়েছে ১৬ সেপ্টেম্বর।
ইডির বিশেষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মন্ত্রীকে হাজিরা দিতে হবে। ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণ করা বাধ্যতামূলক। আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে বড়সড় বিপদে পড়তে পারেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে মন্ত্রী নিজেই জানান, কাগজপত্র হাতে এলে আত্মসমর্পণ ও জামিনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবেন। সেই মতোই শনিবার ইডির আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন তিনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আগেই ইডি তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিলেও, রাজ্যপালের (Governor C. V. Ananda Bose) অনুমতি না থাকায় তা গ্রহণ করেনি আদালত। গত সপ্তাহেই রাজ্যপাল বিচারপ্রক্রিয়া চালানোর অনুমতি দেন। এরপরই আদালতের নির্দেশে আত্মসমর্পণ বাধ্যতামূলক হয় চন্দ্রনাথের জন্য।
ইডি সূত্রে দাবি, চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়ি থেকে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। এছাড়াও ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তাঁর অ্যাকাউন্টে দেড় কোটির বেশি অস্বচ্ছ লেনদেনের তথ্য রয়েছে তদন্তকারীদের হাতে।
বর্তমানে মন্ত্রিত্বে থাকা অবস্থায় চার্জশিটভুক্ত হওয়ায় শাসকদল তৃণমূল (TMC) যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়েছে। অতীতে যেমন প্রাক্তন ও বর্তমান একাধিক নেতামন্ত্রী দুর্নীতির তদন্তে জড়িয়েছেন, এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন কারামন্ত্রীও।
চন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে মামলার আইনি লড়াইয়ের দিকেই এখন নজর গোটা রাজনৈতিক মহলের।