বিনোদন
‘বিষাক্ত প্রোপাগান্ডা’ নাকি বাস্তব কাহিনি? ‘কেরালা স্টোরি ২’ নিয়ে বয়কটের ডাক জামাতের
ডিজিটাল ডেস্কঃ ‘কেরালা স্টোরি ২’ (The Kerala Story 2) ছবিটির টিজার মুক্তি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন থেকে শুরু করে সর্বভারতীয় মুসলিম জামাত—সকলেই এই ছবিকে ‘বিষাক্ত প্রোপাগান্ডা’ (Toxic Propaganda) এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের সভাপতি মওলানা শাহাবুদ্দিন রাজভি বরেলৈভি এই সিনেমার তীব্র নিন্দা করে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে নির্মাতাদের মধ্যে কেবল অর্থ উপার্জনের (Profit making) জন্য সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরির এক ভয়ঙ্কর প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। তাঁর মতে, মিথ্যে তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই ছবি বানিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে মুসলিম সমাজকে অপমান করা হচ্ছে এবং হিন্দু-মুসলিম সৌভ্রাতৃত্ব (Brotherhood) নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যেই কেরালা হাইকোর্ট (Kerala High Court) ছবিটির নির্মাতাদের আইনি নোটিশ (Legal Notice) পাঠিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এক বিবৃতিতে জানান, এই ধরনের সিনেমা কেরালার ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধে (Secular Values) আঘাত হানার একটি পরিকল্পিত খেলা। তিনি অভিযোগ করেন, প্রথম পর্বের মতো এই সিনেমাতেও জোরপূর্বক ধর্মান্তরিতকরণ (Forced Conversion) নিয়ে অতিরঞ্জিত ও ভিত্তিহীন দাবি করা হয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুরও এই ছবির কঠোর সমালোচনা করে একে ‘বিদ্বেষ ছড়ানোর প্রযোজনা’ (Production of Hate) বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, হাজার হাজার মানুষের ধর্মান্তরিত হওয়ার তথ্যটি সম্পূর্ণ অতিরঞ্জিত এবং সমাজকে বিভক্ত করার উদ্দেশ্যেই এই প্রচার চালানো হচ্ছে।
ছবির টিজারে দেখানো হয়েছে, একাধিক নারী তারা প্রেমের ফাঁদে (Honey trap) পড়ে ধর্মান্তরিত হয়েছেন। এমনকী ভারতকে একটি নির্দিষ্ট ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত দেশ বানানোর চক্রান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে টিজারে। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি সিনেমাটি বড়পর্দায় মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও, তার আগেই সামাজিক দায়বদ্ধতা (Social Responsibility) বনাম উসকানিমূলক কাহিনি নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে পৌঁছেছে।


