ভাইরাল খবর
রাজ্যে নতুন সরকারি ছুটি ঘোষণা! দুর্গাপূজা ও পর্যটন নিয়ে রাজ্য বাজেটে বড় ঘোষণা
ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্যের প্রশাসনিক সংস্কার এবং সাংস্কৃতিক আবেগকে প্রাধান্য দিয়ে এক ঐতিহাসিক বাজেট পেশ করল বর্তমান সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে (Full Budget) একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের আবেগকে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে রাজ্যের অর্থনৈতিক বুনিয়াদকে শক্ত করতে একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সোমবার বিধানসভায় (Assembly) বাজেট পেশ করার সময় তিনি রাজ্যে একটি নতুন সরকারি ছুটির কথা জানান। এর পাশাপাশি রাজ্যের ব্যবসা-বাণিজ্যকে সচল করতে এবং পর্যটন শিল্পকে (Tourism Industry) বিশ্বদরবারে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে একগুচ্ছ মেগা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
বাঙালির ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক আবেগকে সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বাজেটে এক বড় ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন উপলক্ষ্যে এবার থেকে প্রতি বছর ৬ জুলাই গোটা রাজ্যে পূর্ণাঙ্গ সরকারি ছুটি (Public Holiday) থাকবে। শুধু ছুটির ঘোষণাই নয়, তাঁর গৌরবময় স্মৃতিকে অমর করে রাখতে রাজ্যে ১২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিশাল মূর্তি (Statue) নির্মাণ করা হবে। একই সাথে, সাধারণ মানুষ, পড়ুয়া ও গবেষকদের সুবিধার্থে তাঁর স্মৃতি বিজড়িত বিশেষ গ্রন্থাগারের (Library) পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য বাজেটে ২০০ কোটি টাকার একটি বিশাল তহবিল (Fund) বরাদ্দ করা হয়েছে।
বাজেটের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজাকে ঘিরে এক আন্তর্জাতিক মানের মহাপরিকল্পনা। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে রাজ্যের পর্যটনকে তুলে ধরতে বড়সড় ব্র্যান্ডিং অভিযান (Branding Campaign) শুরু করছে সরকার। এই বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “দুর্গাপূজা হল বাংলার সাংস্কৃতিক আত্মা। দুর্গাপূজা বিশ্বজনীন উৎসব, বাংলার চিরন্তন আবেগ— এই মূল প্রতিপাদ্যকে (Theme) সামনে রেখে আমরা একটি সুনির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক পর্যটন প্রচার শুরু করব।” এর মূল উদ্দেশ্য (Objective) হলো, উৎসবের দিনগুলিতে সারা পৃথিবীর পর্যটকদের বাংলায় আকৃষ্ট করা এবং রাজ্যের পর্যটন ব্যবসাকে এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।
ধর্মীয় ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনের প্রসারেও এই বাজেটে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। কঙ্কালীতলা, কালীঘাট, তারাপীঠ এবং মদনমোহন মন্দিরের মতো ঐতিহাসিক ধর্মস্থানগুলির সংরক্ষণ (Preservation) ও সৌন্দর্যায়নের জন্য বিশেষ বন্দোবস্ত করা হয়েছে। একই সাথে রাজ্যে ‘শ্রীশ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু তীর্থযাত্রা সার্কিট’ (Pilgrimage Circuit) এবং ‘শক্তিপীঠ সার্কিট’ গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিংকে ঢেলে সাজিয়ে একটি আধুনিক ইকো অ্যাডভেঞ্চার পর্যটন কেন্দ্র (Eco-Adventure Tourism Hub) হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আর বন্যপ্রাণী ও রোমাঞ্চপ্রেমীদের জন্য বড় সুখবর দিয়ে ঝাড়গ্রাম চিড়িয়াখানায় একটি নতুন টাইগার সাফারি (Tiger Safari) চালুর ঘোষণা করা হয়েছে অর্থমন্ত্রীর এই জনমুখী বাজেটে।
