মালদা
কালিয়াচক কাণ্ডের পাণ্ডা মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার! বাগডোগরা থেকে পালানোর পথেই ধরল সিআইডি
অবশেষে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে দীর্ঘক্ষণ পালানোর পর জালে ধরা পড়লেন মালদার কালিয়াচক কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত বা মাস্টারমাইন্ড (Mastermind) মোফাক্কেরুল ইসলাম। শুক্রবার সকালে তাকে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশের অপরাধ দমন শাখা বা সিআইডি (CID)। অভিযোগ, কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির নেপথ্যে ছিল এই নেতার প্ররোচনামূলক ভাষণ।
কী ঘটেছিল সেদিন?
সম্প্রতি মালদার কালিয়াচকের ২ নম্বর ব্লক অফিসের সামনে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, ডি-ভোটার (D-Voter) বা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া সংক্রান্ত আন্দোলনের নামে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের (Judicial Officers) লক্ষ্য করে উস্কানি দেওয়া হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এই এআইএমআইএম (AIMIM) নেতা একটি গাড়ির বনেটে উঠে উত্তেজিতভাবে ভাষণ দিচ্ছেন। তাঁর সেই বক্তৃতার পরেই উত্তেজিত জনতা ৩ মহিলা বিচারক-সহ মোট ৭ জন আধিকারিককে প্রায় ৯ ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখেন।
পালানোর ছক ও গ্রেফতারি
ঘটনার পর থেকেই মোফাক্কেরুলের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। তাঁর বাড়িতে হানা দিলেও হদিস পাওয়া যায়নি। জানা যায়, শুক্রবার সকালে তিনি বাগডোগরা বিমানবন্দর (Bagdogra Airport) দিয়ে রাজ্য ছাড়ার পরিকল্পনা বা পালানোর ছক (Escape plan) কষেছিলেন। কিন্তু গোয়েন্দাদের তৎপরতায় বিমান ধরার আগেই ধরা পড়েন তিনি।
গ্রেফতার হওয়ার পর ফেসবুক লাইভে (Facebook Live) এসে মোফাক্কেরুল দাবি করেন, “ডি-ভোটারদের প্রতিবাদ করার অপরাধেই আমাকে বাগডোগরা এয়ারপোর্ট থেকে ধরা হলো।” উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ইটাহার থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন এবং সেই সময়েও তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল।
উত্তাল রাজ্য রাজনীতি
কালিয়াচকের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় বিচারকদের ঘেরাও এবং পথ অবরোধের (Road Blockade) ঘটনায় রাজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যেভাবে জনতাকে প্ররোচিত করা হয়েছিল এবং আঙুল উঁচিয়ে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল, তাকে ভালো চোখে দেখছে না প্রশাসন। আপাতত এই ঘটনার মূল অভিযুক্তকে জেরা করে সিআইডি জানার চেষ্টা করছে, এর পিছনে আরও বড় কোনও ষড়যন্ত্র ছিল কি না।
