বাস্তুশাস্ত্র
সন্তান পড়াশোনায় মন দিতে চাইছে না? একাগ্রতা বাড়াতে বইয়ের মধ্যে রাখুন এই বিশেষ জিনিসগুলি
ডিজিটাল ডেস্কঃ সন্তানের পড়াশোনায় মনোযোগ (Concentration) ও একাগ্রতা (Focus) বাড়াতে অনেক অভিভাবকই নানা উপায় খোঁজেন। যদিও ভালো ফলের জন্য নিয়মিত পড়াশোনা, সঠিক পরিবেশ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং অভ্যাসের কোনও বিকল্প নেই, তবুও জ্যোতিষশাস্ত্র (Astrology) ও প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাসে কিছু প্রতীকী উপায়ের উল্লেখ রয়েছে, যা ইতিবাচক শক্তি (Positive Energy) বৃদ্ধি এবং মনোযোগ বাড়াতে সহায়ক বলে মনে করা হয়।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সন্তানের বইয়ের মধ্যে কিছু শুভ প্রতীক রাখলে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ, স্মৃতিশক্তি (Memory) এবং শেখার ইচ্ছা বৃদ্ধি পেতে পারে। অনেকেই ছোটবেলা থেকে বইয়ের মধ্যে ময়ূরের পালক রাখেন, যা শ্রীকৃষ্ণের আশীর্বাদের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে এর পাশাপাশি আরও কয়েকটি জিনিস শুভ বলে মনে করা হয়।
এর মধ্যে অন্যতম হল তুলসী (Tulsi), নিম (Neem) অথবা অশোক (Ashoka) গাছের শুকনো পাতা। জ্যোতিষীয় বিশ্বাসে এগুলি নেতিবাচক শক্তি দূর করে এবং মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে তুলসীর শুকনো পাতা বইয়ের মধ্যে রাখলে একাগ্রতা বাড়তে পারে বলে প্রচলিত ধারণা।
এছাড়া একটি সাদা কাগজে হলুদ (Turmeric) বা কেশর (Saffron) দিয়ে ‘ওঁ’ লিখে বইয়ের মধ্যে রাখারও প্রচলন রয়েছে। জ্যোতিষ মতে, বৃহস্পতি (Jupiter) জ্ঞান, শিক্ষা ও প্রজ্ঞার প্রতীক। তাই এই প্রতীক জ্ঞান অর্জনের পথে শুভ বলে বিশ্বাস করা হয়।
আরও একটি প্রচলিত উপায় হল বইয়ের মধ্যে বা পড়ার টেবিলে একটি রুপোর মুদ্রা (Silver Coin) রাখা। চাঁদ (Moon)-কে মনের অধিপতি এবং রুপোকে চাঁদের ধাতু হিসেবে ধরা হয়। তাই এটি মনকে স্থির রাখতে এবং পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে সহায়ক বলে মনে করা হয়।
অনেকেই বিদ্যার দেবী সরস্বতীর (Goddess Saraswati) ছোট ছবি বইয়ের মধ্যে বা মলাটে রাখেন। সঙ্গে ‘ওঁ ঐং সরস্বত্যৈ নমঃ’ মন্ত্র লিখে রাখারও প্রচলন রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এতে বিদ্যার দেবীর আশীর্বাদ লাভ হয়, ইতিবাচক চিন্তাভাবনা গড়ে ওঠে এবং নতুন বিষয় শেখার আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
তবে মনে রাখা জরুরি, এগুলি সম্পূর্ণই প্রচলিত ধর্মীয় ও জ্যোতিষীয় বিশ্বাসের অংশ। পড়াশোনায় সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হল নিয়মিত অনুশীলন, সঠিক পরিকল্পনা এবং অধ্যবসায়।
