'মমতার মন্দিরে' গিয়েই বিতর্কে দিলীপ, পালটা তোপে কাঁপছে বিজেপি
Connect with us

ধর্ম

‘মমতার মন্দিরে’ গিয়েই বিতর্কে দিলীপ, পালটা তোপে কাঁপছে বিজেপি

Dipa Chakraborty

Published

on

দিজিতাল ডেস্কঃ দিঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে হাজির হয়েছিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রীও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোড়ন। একদিকে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা—তাঁর কি তবে জার্সি বদলের ইঙ্গিত? অন্যদিকে বিজেপির অন্দরেই উঠছে প্রশ্ন—দলের অবস্থানের বিরোধিতা করেও কেন দিলীপের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?

এই বিতর্কের মাঝেই বৃহস্পতিবার দিঘার সৈকত থেকে স্পষ্ট বার্তা দেন দিলীপ ঘোষ। নাম না করে দলের একাংশকে নিশানা করে বলেন, “যাঁরা মমতার আঁচলের তলায় রাজনীতি শিখে বিজেপিতে এসে সুবিধে নিচ্ছেন, তাঁদের থেকে দিলীপ ঘোষ কিছু শিখবে না। আমি জানি কীভাবে লড়াই করতে হয়।”

শুক্রবার সকালে দিলীপ আরও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে মুখ খোলেন। জগন্নাথ মন্দিরে যাওয়া নিয়ে দলীয় বিতর্ককে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, “যারা হিন্দু হিন্দু বলে মুখে ফেনা তুলে, তারাই আজ হিন্দু মন্দির থেকে হিন্দুদের দূরে রাখছে। কাশী বিশ্বনাথ মন্দির প্রধানমন্ত্রী মোদীজি তৈরি করেছেন বলে কেউ কি বলেছে ওটা মোদীর মন্দির? তাহলে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে গেলে তৃণমূল হয়ে যাব? মানুষকে এত বোকা ভাবছেন কেন?”

আরও পড়ুনঃ ত্যাগী থেকে ভোগী! দিঘায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দিলীপের সাক্ষাৎ ঘিরে বিজেপিতে বিতর্কের ঝড়

Advertisement
ads

একই সঙ্গে ধর্ম এবং রাজনীতির বিভাজন নিয়েও তোপ দাগেন দিলীপ। তাঁর মন্তব্য, “রামায়ণের রাম আর বিজেপির রাম আলাদা নয়। পুরীর জগন্নাথ আর দিঘার জগন্নাথও এক। যে যেখানে ইচ্ছা, প্রণাম করবে। মন্দিরে ভেদাভেদ করলে হিন্দুরা বিজেপিকে ভোট দেবে?”

বিষয়টি এখানেই থামেনি। নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দলের একাংশের মন্তব্যকে কটাক্ষ করে দিলীপ বলেন, “যারা আজ বিশ্লেষণ করছে, তারা একসময় আমার পেছনে ঘুরে বেড়াত। কেউ বিশেষজ্ঞ, কেউ উপদেষ্টা হয়েছিল। আজ জামা পালটে আমাকেই উপদেশ দিচ্ছে। এরা সব অন্ন দাস। কিন্তু দিলীপ ঘোষ কারও সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করে চলে না। বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়।”

সবশেষে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন দলেরই সমালোচকদের উদ্দেশে। স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “টিভিতে যারা আজ বড় বড় কথা বলছেন, তারা কেউ প্রমাণ করতে পারবেন? আমি কোনওদিন কোনও তৃণমূল নেতাকে ফোন করেছি। মুখ্যমন্ত্রীকে তো দূরের কথা। বরং ওদেরই কেউ দরকারে আমায় ফোন করেছে। গোপনে অ্যাপ ব্যবহার করে ফোন করিনি, রাতের অন্ধকারে কালীঘাটেও যাইনি। দিলীপ ঘোষ লড়েছে, আবার লড়বে। বিজেপির মানে কী, তা আমি জানি।”

দলের অন্দরে ক্ষোভ ও বিতর্ক যেভাবে বাড়ছে, তাতে পরিষ্কার—দিঘার মন্দিরে একবার পা দিয়েই দিলীপ ঘোষ নতুন করে রাজনীতির কেন্দ্রে। এখন দেখার, দল তাঁর এই অবস্থানের কী মূল্যায়ন করে।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement